তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদের অন্যতম অভিজাত এলাকা জুবিলি হিলস শুক্রবার এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বিনয় রঞ্জন রায়ের স্ত্রীকে তার নিজ বাসভবনেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত তনুজা রায়ের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, তাঁকে শ্বাসরোধ করে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি.সি. সজ্জনার সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং গোয়েন্দাদের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় প্রাক্তন আইপিএস বিনয় রঞ্জন রায় শহরের বাইরে ছিলেন। বাড়িতে তনুজা দেবী একা থাকার সুযোগটিই নিয়েছিল আততায়ীরা।
এই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহের তির পরিবারের নতুন গৃহকর্মীর দিকে। জানা গেছে, পরিবারটি সম্প্রতি নেপাল থেকে একজন পরিচারক নিয়োগ করেছিল। অভিযোগ উঠছে যে, ওই নেপালি গৃহকর্মী এবং তার এক সহযোগী মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যার পর তারা আলমারি ভেঙে এবং লকার থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান অলঙ্কার নিয়ে চম্পট দেয়। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্র ব্যবহার করে অভিযুক্তদের পালানোর পথ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
জুবিলি হিলস থানা ইতিমধ্যেই একটি খুনের মামলা দায়ের করেছে। কমিশনার সজ্জনার জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। অভিজাত এলাকায় এমন সুরক্ষিত বাড়িতে এই ধরণের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ও ফরেনসিক দলের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যা মূলত লুঠপাটের উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে





