দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর টানটান উত্তেজনার অবসান। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত মেলার পর আজ রাজ্য বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁর নামেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। ‘ভূমিপুত্র’ এবং লড়াকু নেতা হিসেবে শুভেন্দুর ওপর ভরসা করেই আগামী দিনের পথ চলার সিদ্ধান্ত নিল গেরুয়া শিবির।
শুভেন্দুতেই কেন ভরসা? রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক বছরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং জনভিত্তিই তাঁকে লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও কৌশলী নেতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দিল্লির হাইকম্যান্ড মনে করছে, শুভেন্দুর হাতে রাজ্যের দায়িত্ব থাকলে প্রশাসনের রাশ শক্ত হাতে ধরা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক পরিবর্তন বৈঠক শেষে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী কেবল একজন প্রভাবশালী নেতাই নন, তিনি বাংলার প্রতিটি ব্লকের নাড়িনক্ষত্র জানেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। নাম ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দলীয় কর্মীরা। জেলাজুড়ে আবির খেলা আর মিষ্টি বিতরণের ধুম পড়ে গিয়েছে।
শপথ ও পরবর্তী ধাপ সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজভবনে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় আর কারা ঠাঁই পাবেন এবং প্রশাসনিক রদবদল কীভাবে হবে, তা নিয়ে ইতিমধেই জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে। নবান্নের অলিন্দে এখন একটাই আলোচনা— শুভেন্দু অধিকারীর ‘দাপুটে’ শাসনে বাংলার ভবিষ্যৎ গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়।





