“শুভেন্দু নাকি চমক অন্য কেউ?”-সন্ধ্যায় ঘোষণা বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম

দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা-জমানার অবসান। বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এখন বইছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। তৃণমূলকে বিপুল ব্যবধানে পরাস্ত করে ঐতিহাসিক জয় হাসিল করেছে বিজেপি। কিন্তু জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— কে হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? কার হাতে উঠবে বাংলার প্রশাসনিক চাবিকাঠি?

অমিত শাহের উপস্থিতিতে মেগা বৈঠক

আজ শুক্রবার সকালেই তিলোত্তমায় পা রেখেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সফর ঘিরেই রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রের খবর, আজ সন্ধ্যায় শাহের সভাপতিত্বেই নব্য নির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে। এই বৈঠকেই সিলমোহর পড়তে পারে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার কাঠামো এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ রাখা হবে কি না, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ।

সমীকরণের খেলা: মন্ত্রিসভায় কাদের দাপট?

বিজেপির এবারের জয় এসেছে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ব্যাপক সমর্থনে। ফলে মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের নেতাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি SC/ST এবং মহিলা প্রতিনিধিদের বড় অংশ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।

কারা এগিয়ে মন্ত্রী পদের দৌড়ে?

সবচেয়ে বেশি জল্পনা চলছে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর তাঁর পাল্লা এখন সবথেকে ভারী। তিনি মুখ্যমন্ত্রী না হলেও, স্বরাষ্ট্র বা অর্থ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন তিনি। এছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন:

  • অগ্নিমিত্রা পাল: মহিলা ভোটব্যাঙ্ক সংহত করায় তাঁর পুরস্কার নিশ্চিত।

  • দিলীপ ঘোষ: সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হতে পারে।

  • মতুয়া মুখ: অসীম সরকার বা মুকুটমণি অধিকারীর মতো নেতাদের অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত।

  • তরুণ ও নতুন মুখ: আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী, সজল ঘোষ, ইন্দ্রনীল খান এবং নিশীথ প্রামাণিকের মতো নামগুলো নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

চমক দিতে পারেন রত্না দেবনাথ ও উৎপল মহারাজ

এবারের নির্বাচনে বড় চমক ছিলেন আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী উৎপল মহারাজ। তাঁরা দুজনেই বিধায়ক হিসেবে জয়ী হওয়ায় মন্ত্রিসভায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। এছাড়াও অর্জুন সিং, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং গৌরী শঙ্কর ঘোষদের মতো পোড়খাওয়া নেতারাও রয়েছেন মন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে।

বিজেপির এই প্রথম ‘বাংলা ক্যাবিনেট’ কি পারবে আমজনতার প্রত্যাশা পূরণ করতে? সব নজর এখন সন্ধ্যার সেই মেগা বৈঠকের দিকে।