পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে এক নতুন জল্পনা— সরকারি অনুদান কি চালু থাকবে, নাকি বদলে যাবে নাম ও অঙ্ক? রাজ্যের মসনদে বিজেপির বসার খবর নিশ্চিত হতেই গ্রামে-গঞ্জে এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং বিজেপির প্রতিশ্রুতি দেওয়া ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’। আগামী ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ। কিন্তু তার আগেই মে মাসের টাকা ব্যাঙ্কে না ঢোকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ গৃহবধূর।
বহু নিম্নবিত্ত পরিবারের মহিলাদের কাছে এই সরকারি অনুদান শুধুমাত্র সামান্য হাতখরচ নয়; এটি অনেকের সংসার চালানোর মূল চালিকাশক্তি। কেউ এই টাকায় সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটান, কেউবা অসুস্থ পরিজনের ওষুধ কেনেন। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও এখনও বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট না হওয়ায় ব্যাঙ্কে ভিড় জমাচ্ছেন মহিলারা। কিন্তু সেখানে তাঁদের হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, কারণ ব্যাঙ্ক থেকে সাফ জানানো হচ্ছে— সরকারি কোষাগার থেকে এখনও টাকা এসে পৌঁছায়নি।
এই অনিশ্চয়তার মাঝেই আশার আলো দেখাচ্ছে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’। নির্বাচনী প্রচারে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তাঁরা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে দেবেন। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে চলায় অনেকেই মনে করছেন, মে মাস থেকেই কি তাহলে ৩০০০ টাকা পাওয়া যাবে? রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়নি। শপথগ্রহণের পর প্রশাসনিক কাজকর্ম গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জুন মাস থেকেই সম্ভবত ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প পুরোদমে চালু হতে পারে। তবে মে মাসের বকেয়া টাকা বা ৩০০০ টাকার নতুন কিস্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শপথগ্রহণের পরেই। নতুন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, মে মাস থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার একটি জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আবেদনপত্র কোথায় জমা দিতে হবে বা পুরনো উপভোক্তারা কীভাবে নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা সরকার গঠনের পরই বিশদে জানানো হবে। আপাতত ৩০০০ টাকার প্রত্যাশা এবং বর্তমান আর্থিক অনিশ্চয়তার দোলাচলেই দিন কাটছে বাংলার কোটি কোটি গৃহবধূর।





