রাজস্থানের আলওয়ার জেলার গোবিন্দগড় থানা এলাকা এখন কার্যত এক অশান্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গভীর রাতে বুলেট বাইকের সাইলেন্সার থেকে বিকট শব্দ করে বাজি ফোটানো এবং বিপজ্জনক স্টান্ট দেখানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলার সূত্রপাত। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক হয়ে ওঠে যে, উত্তেজিত জনতা সরাসরি থানায় হামলা চালায়। এই ঘটনায় পুলিশ আধিকারিকসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সুপার সুধীর সিং জানিয়েছেন, গতকাল গভীর রাতে দুই যুবক একটি বুলেট বাইক নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। বাইকের সাইলেন্সার মডিফাই করে তারা বিকট শব্দ (বাজি ফোটানোর মতো শব্দ) করছিল এবং বিপজ্জনক স্টান্ট দেখাচ্ছিল। এই ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ পেয়ে গোবিন্দগড় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যুবকদের আটক করে তাদের বাইকটি বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশের এই আইনি পদক্ষেপেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে একদল যুবক। বাইক জব্দের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে থানার সামনে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়। ভিড় দ্রুত সহিংস রূপ নেয় এবং গোটা থানা ঘিরে ফেলে। তারা কেবল স্লোগান দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় মুহুর্মুহু পাথরবৃষ্টি। আকস্মিক এই আক্রমণে পুলিশকর্মীরা হকচকিয়ে যান এবং প্রাণ বাঁচাতে অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে দেখা যায়।
হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, থানার ভেতরে ও বাইরে সর্বত্র ভাঙা কাঁচ ও রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই ঘটনায় স্টেশন অফিসার ধরম সিং সহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন। দাঙ্গাকারীরা থানার বাইরে পার্ক করা পুলিশের গাড়িগুলোতেও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী তলব করা হয়। উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি এবং মোবাইল ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং রক্ষকদের ওপর এই ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেও এই রাজস্থানের বেহরোর থানায় গ্যাংস্টার পাপলাকে ছাড়িয়ে নিতে একই কায়দায় হামলা হয়েছিল, যা আজ আবার গোবিন্দগড়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ফিরিয়ে আনল।





