লোকসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক রক্তক্ষরণে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যমগ্রাম। গতকাল রাতে প্রকাশ্য রাস্তায় আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর বুকের বাম দিকে পরপর দুটি গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চন্দ্রনাথের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
“ফাঁসি নয়, আমি মা” – কান্নায় ভেঙে পড়েও মানবিক মা ছেলের খুনিদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠলেও, এক নজিরবিহীন আর্জি জানিয়েছেন চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ। শোকাতুর মা বলেন, “আমি একজন মা, তাই চাই না অন্য কারও মায়ের কোল খালি হোক। আমি ওদের ফাঁসি চাই না, কিন্তু দোষীদের আজীবন কারাদণ্ড হোক। ওরা যাতে জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে পচে মরে।” তবে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে শক্তিশালী হচ্ছে দেখেই সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে হত্যাকাণ্ডের পর সরাসরি শাসকদলের দিকে আঙুল তুলেছে নিহতের পরিবার। হাসিরানি দেবীর দাবি, ভোটের ফলের পর থেকেই এলাকায় তৃণমূলের নেতারা উস্কানিমূলক মন্তব্য করছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “যদি কোনো দুর্ঘটনায় আমার ছেলে মারা যেত, নিজেকে বুঝিয়ে নিতাম। কিন্তু যেভাবে ওকে নির্যাতন করে মারা হলো, তা মেনে নেওয়া যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর থেকেই আমাদের পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছিল।”
বিভীষিকাময় সেই রাত পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ টেলিভিশনের পর্দায় ব্রেকিং নিউজ দেখেই তাঁরা চমকে ওঠেন। পর্দায় ভাসছে চন্দ্রনাথের ছবি, বলা হচ্ছে তাঁকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। নিমেষের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বাড়ি। প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং রাতেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।
তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনী হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হতাশা থেকেই তাঁরা শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ লোককে খুন করলেন। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই।”
অন্যদিকে, এই খুনের ঘটনার নেপথ্যে কোনো ‘সুপারি কিলার’ বা ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে রাজ্যে।





