রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে থাপ্পড়কাণ্ড! রুডিগারের রোষে দলছুট সতীর্থ, ভাঙনের মুখে গ্যালাক্টিকো?

ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে হেভিওয়েট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের অন্দরমহলে এখন চরম অস্থিরতা। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও এখন বেশি চর্চা হচ্ছে ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা নিয়ে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর দাবি, দলের অভিজ্ঞ জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার তাঁর সতীর্থ আলভারো ক্যারেরাসকে থাপ্পড় মেরেছেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত রিয়াল বেতিসের বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর। ম্যাচ শেষে পয়েন্ট নষ্টের হতাশায় যখন ড্রেসিংরুমের পরিবেশ উত্তপ্ত, তখনই রুডিগার ও কারেরাসের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বাকবিতণ্ডা সপ্তমে পৌঁছায় এবং অভিযোগ উঠেছে যে, ৩৩ বছর বয়সী রুডিগার মেজাজ হারিয়ে কারেরাসকে চড় মারেন। জানা গিয়েছে, এই দুই ফুটবলারের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল না এবং এর আগেও একাধিকবার তাঁদের মধ্যে চরম কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

বিতর্কে রুডিগারের ‘আগ্রাসন’:
রুডিগার তাঁর আক্রমণাত্মক মেজাজের জন্য পরিচিত হলেও সম্প্রতি তাঁর আচরণ সীমা ছাড়িয়েছে বলে মত ফুটবল বিশেষজ্ঞদের। চলতি মরশুমে দিয়েগো রিকোর মাথায় ইচ্ছাকৃতভাবে হাঁটু দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার জসিপ স্ট্যানিসিচকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এবার সতীর্থের গায়ে হাত তোলার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল।

ড্যামেজ কন্ট্রোল বনাম দলের ফাটল:
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রুডিগার অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। ড্রেসিংরুমের ফাটল ঢাকতে গত শুক্রবার তিনি দলের সতীর্থ ও তাঁদের পরিবারকে নিয়ে একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও করেন। কিন্তু তাতেও বরফ বিশেষ গলেনি। ঘটনার প্রভাব পড়েছে সরাসরি মাঠে। এই ঘটনার পর থেকে কারেরাসকে আর রিয়ালের প্রথম একাদশে দেখা যায়নি। এসপানিয়ল ও বেতিসের বিরুদ্ধে তাঁর জায়গায় ফারল্যান্ড মেন্ডিকে খেলানো হয়েছে। এমনকি মেন্ডি চোট পাওয়ার পর কোচ আরবেলোয়া ফ্রান গার্সিয়াকে নামালেও কারেরাসকে ব্রাত্যই রাখা হয়েছে। বেঞ্চে বসে এই পরিস্থিতি দেখে কারেরাসকে বিদ্রূপের হাসি হাসতে দেখা গিয়েছে, যা দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ কী?
এই গ্রীষ্মেই রুডিগারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ড্রেসিংরুমে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ থাকলেও কোচ আরবেলোয়া বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ রুডিগারকে ছাড়তে নারাজ। সূত্রের খবর, তাঁকে আরও এক বছরের জন্য রাখার কথা বিবেচনা করছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে কারেরাস এবং রুডিগারের এই ‘ইগো’র লড়াই মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমের ঐক্য নষ্ট করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy