বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। গেরুয়া ঝড়ে যখন ঘাসফুল শিবিরের দাপট কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই কোচবিহারের দিনহাটায় ঘটল এক নাটকীয় ঘটনা। একসময়ের অপ্রতিরোধ্য নেতা, বাম জমানার দাপুটে নেতা কমল গুহর পুত্র তথা বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ এলাকা ছেড়েছেন বলে খবর। তবে কোনো বিলাসবহুল গাড়ি নয়, সপরিবারে পালানোর জন্য তিনি বেছে নিলেন একটি ‘অ্যাম্বুলেন্স’।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা কেন্দ্র থেকে বিজেপির অজয় রায়ের কাছে ১৭ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন উদয়ন গুহ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ফল ঘোষণার পরই মেজাজ হারান তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। অভিযোগ উঠেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে নিজের স্ত্রী এবং পুত্র সায়ন্তন গুহসহ গোটা পরিবারকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে চেপে এলাকা ছেড়েছেন তিনি। একসময়ের ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত নেতার এমনভাবে লুকিয়ে পগারপার হওয়া নিয়ে দিনহাটার বাজার থেকে রাজভবন—সর্বত্রই এখন হাসির রোল।
উদয়ন গুহর এই ‘পলায়ন’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দিনহাটার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অজয় রায়। তিনি বলেন, “এতদিন দিনহাটার মানুষকে যারা ভয় দেখিয়ে শাসন করেছেন, আজ তাদেরই অ্যাম্বুলেন্সে লুকিয়ে পালাতে হচ্ছে। কুটিল কথা এবং ঔদ্ধত্যের পরাজয় হয়েছে। দিনহাটার মানুষ অবশেষে মুক্তির শ্বাস নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে এবার সত্যিকারের উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে উদয়ন গুহর রাজত্বে দিনহাটায় এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “উনি দাপুটে নেতা ছিলেন ঠিকই, কিন্তু মানুষ শান্তি চেয়েছিল। ভোটের রায়েই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে মানুষ আর ওনাকে চায় না।” যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, উদয়ন গুহ কোথাও পালাননি। নিরাপত্তার খাতিরে এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে হয়তো সাময়িকভাবে অন্য কোথাও গিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁর ফোন বন্ধ থাকা এবং পৈতৃক বাড়িতে তালা ঝুলে থাকা সেই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কমল গুহর উত্তরাধিকারী হিসেবে যে দাপট উদয়ন গুহ বজায় রেখেছিলেন, এই ১৭ হাজারের ব্যবধানে পরাজয় এবং ‘অ্যাম্বুলেন্স যাত্রা’ তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড়সড় দাঁড়ি বসিয়ে দিতে পারে। দিনহাটার অলিতে-গলিতে এখন একটাই আলোচনা—যাঁকে একসময় বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খাওয়াতেন, আজ সেই ‘রাজা’ই রাজ্য হারিয়ে নিখোঁজ!





