‘৯ তারিখের পর বিজয় মিছিল,’-কর্মীদের বড় বার্তা শুভেন্দুর, রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি

টানটান উত্তেজনা আর ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে অবশেষে কাটল আইনি জট। সোমবার রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধরণের বিজয় মিছিল ও জমায়েতের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন, মঙ্গলবার তা শিথিল করা হয়েছে। তবে ছাড়পত্র মিললেও ‘শর্তহীন’ স্বাধীনতা থাকছে না রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে। মিছিল করতে হলে এখন থেকে স্থানীয় থানার আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

৯ তারিখের পর মিছিলের ডাক শুভেন্দুর বুধবার নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উৎসব হবে কিন্তু তা নিয়ম মেনে। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “৯ তারিখের পর আপনারা সংশ্লিষ্ট থানার অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, কোথাও যেন শান্তি বিঘ্নিত না হয়।” মূলত হিংসার অভিযোগ এড়াতেই শুভেন্দুর এই কৌশলী পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লালবাজারের কড়া নজরদারি ভোটের ফল ঘোষণার দিন অর্থাৎ ৪ মে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া ছিল কলকাতা পুলিশ। রবিবার রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ফলাফল প্রকাশের পর কোনও বিজয় উৎসব করা যাবে না। তবে ৫ মে থেকে প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে সেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমোদিত মিছিলকে নির্ধারিত রুট ও নিয়ম মেনেই চলতে হবে। কোনওরকম আইন লঙ্ঘিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

রক্তাক্ত বাংলা: একাধিক জায়গায় অশান্তির খবর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে তৃণমূলের শিবির ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। ব্যারাকপুরের রাজ চক্রবর্তীর ওপর হামলা থেকে শুরু করে নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণঙ্কুর ভট্টাচার্যকে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো অভিযোগও জমা পড়েছে।

শুধু তাই নয়, যাদবপুর, বাঘাযতীন, পাটুলি এবং ট্যাংরা এলাকার একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। কোথাও ঘাসফুলের পতাকা সরিয়ে গেরুয়া নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে ব্যানার-ফ্লেক্স। তারাতলায় গাড়ি ভাঙচুর এবং রুবি মোড়েও তাণ্ডব চালানোর খবর মিলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও রাজ্যজুড়ে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। একদিকে যেমন রাজনৈতিক উন্মাদনা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়িও জারি রয়েছে যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে না যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy