স্মার্টফোন ব্যবহার করেন অথচ দিনে অন্তত ৫-১০টি স্প্যাম কলের অত্যাচারে বিরক্ত হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কখনও বিমা করানোর প্রস্তাব, কখনও আবার লটারি জেতার টোপ—অবাঞ্ছিত এই কলগুলি এখন সাধারণ মানুষের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম কলার আইডেন্টিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুকলার’ (Truecaller) একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টে জানা গিয়েছে, বিশ্বের স্প্যাম কলিংয়ের তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
ঠিক কী এই স্প্যাম কল?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, স্প্যাম কল হলো এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন কল যা সাধারণত বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন, প্রচার বা সরাসরি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হয়। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা এই কলগুলো মূলত চারটি প্রধান উপায়ে মানুষকে বিরক্ত বা প্রতারিত করে—টেলিমার্কেটিং, রোবোকল (রেকর্ড করা বার্তা), স্ক্যাম বা জালিয়াতি এবং স্পুফিং (নম্বর বদলে জালিয়াতি)।
ট্রুকলারের রিপোর্টে উঠে আসা ভয়াবহ পরিসংখ্যান:
ট্রুকলারের তথ্য অনুযায়ী, স্প্যাম কলিংয়ের তালিকায় প্রথম চারটি স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, চিলি, ভিয়েতনাম ও ব্রাজিল। ভারত এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনিক স্তরে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ফ্রড ও স্প্যাম কল শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভারতে আসা এই বিপুল সংখ্যক কল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে:
৩৬ শতাংশ কল হলো সেলস এবং টেলিমার্কেটিং সংক্রান্ত।
১৮ শতাংশ কল আসে বিভিন্ন ফিনানসিয়াল সার্ভিস বা ঋণ দেওয়ার নাম করে।
১২ শতাংশ কল সরাসরি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা বা স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত।
সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সতর্কতা:
এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রুকলারের সিইও রিশিত ঝুনঝুনওয়ালা। তিনি বলেন, “যে তথ্য আমাদের সামনে এসেছে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সাধারণ মানুষ এখন স্প্যাম কলে জর্জরিত। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে তোলা। সেই কারণে ২০২৬ সালে আমরা এই ধরনের ফ্রড ও স্প্যাম কল পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াব।”
উল্লেখ্য, ট্রুকলার ইতিমধ্যেই তাদের উন্নত এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন রিং হওয়ার আগেই স্প্যাম ডিটেক্ট করতে সক্ষম হচ্ছে। এমনকি অটোমেটেড পদ্ধতিতে এই কলগুলো ব্লক করার সুবিধাও দিচ্ছে সংস্থাটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ট্রুকলারের মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০০ মিলিয়নে পৌঁছে গিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে স্প্যাম কলের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ এখন এই ধরনের প্রযুক্তির ওপর কতটা নির্ভরশীল। তবে প্রযুক্তি থাকলেও, অচেনা নম্বর থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক না করার বা ওটিপি শেয়ার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





