মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই এক টানটান উত্তেজনার অভিযান সফল করল ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মাঝেই অত্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করল একটি ভারতীয় এলপিজি (LPG) জাহাজ। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল সফল বাণিজ্যিক পরিবহন নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে দিল্লির বাড়তে থাকা প্রভাবেরই পরিচয় দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন অবরোধ বিশ্বের মোট খনিজ তেলের সিংহভাগ পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সম্প্রতি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে এবং ড্রোন হামলার পাল্টায় এই জলপথে কড়া নজরদারি ও আংশিক অবরোধ জারি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভারতের কাছে এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের রান্নার গ্যাসের বড় অংশ এই রুটেই আসে।
ভারতের কৌশলী চাল সূত্রের খবর, ভারতীয় জাহাজটি যখন হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করে, তখন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। একদিকে মার্কিন রণতরীর টহল, অন্যদিকে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের কড়া নজরদারি। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা ও জলপথে সঠিক সমন্বয় বজায় রেখে ভারতীয় জাহাজটি নিরাপদে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছে যায়। কোনো রকম সংঘাত ছাড়াই এই ট্রানজিট সম্পন্ন হওয়া ভারতের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশজুড়ে স্বস্তি এই সফল অভিযানের ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে বড়সড় স্বস্তি ফিরল। এলপিজি বহনকারী এই জাহাজটি নিরাপদে ফিরে আসায় রান্নার গ্যাসের জোগানে যে ঘাটতির আশঙ্কা ছিল, তা আপাতত কেটে গেল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের আবহেও ভারত যেভাবে নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে, তা প্রশংসনীয়।
বিশ্বের নজর ভারতের ওপর মার্কিন অবরোধের মাঝে ভারতের এই সাবলীল চলাচল দেখে অনেক দেশই বিস্মিত। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যে কোনো নির্দিষ্ট শিবিরের চাপে পড়ে নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্ত বদলায় না, এই ঘটনা ফের তা প্রমাণ করল। সুরক্ষিতভাবে হরমুজ প্রণালী পার করে ভারত বার্তা দিল— জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দিল্লি সবসময় আপসহীন।
এখন এই জাহাজটি ভারতীয় বন্দরে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির সময়ে ভারতের এই ‘সাইড মুভ’ নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।





