রেলস্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্ম বা ট্রেনের ভিড়ভাট্টা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর পূর্ব রেল। দিনরাত এক করে এক নীরব বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছে রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF)। তাদের বিশেষ মিশন ‘অপারেশন নানহে ফরিশতে’ (Operation Nanhe Farishtey) এবং ‘অপারেশন আহট’-এর (Operation AAHT) মাধ্যমে গত এক বছরে রেকর্ড সংখ্যক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সাফল্যের খতিয়ান: পরিসংখ্যানে চমক পূর্ব রেলের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আরপিএফ-এর কড়া নজরদারিতে মোট ১৪০৭ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭৬ জন ছেলে এবং ৫৩১ জন মেয়ে। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই সংখ্যাটি ছিল ১২০৯। অর্থাৎ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উদ্ধারকাজের তৎপরতা এবং সাফল্যের হার।
পাচারকারীদের রুখতে ‘অপারেশন আহট’ শুধু হারিয়ে যাওয়া নয়, অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করার চেষ্টা করা হয়। পাচারকারীদের সেই অন্ধকার জাল ছিঁড়ে শিশুদের রক্ষা করতে পূর্ব রেলের ব্রহ্মাস্ত্র হলো ‘অপারেশন আহট’। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করে ট্রেনের কামরা থেকে পাচারকারীদের হাত থেকে শিশুদের ছিনিয়ে আনছে আরপিএফ।
কীভাবে কাজ করে এই মিশন? পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি এই মহতী উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের জওয়ানরা প্ল্যাটফর্মে এবং চলন্ত ট্রেনে সর্বক্ষণ নজরদারি চালান। কোনো শিশুকে একা বা বিপন্ন অবস্থায় দেখলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
উদ্ধার করা শিশুদের সাধারণত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) হাতে তুলে দেওয়া হয় অথবা সরাসরি নথিপত্র যাচাই করে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষের এই মানবিক মুখ দেখে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ছে। স্টেশনে কোনো শিশুকে একা ঘুরতে দেখলে বা বিপদে পড়তে দেখলে তৎক্ষণাৎ রেল পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রেলপথের এই ‘নীরব প্রহরী’দের হাত ধরেই আজ হাজার হাজার পরিবারে ফিরেছে খুশির জোয়ার। নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে পূর্ব রেলের এই দিনরাত লড়াই আজ সর্বস্তরে প্রশংসিত হচ্ছে।





