রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মেগা লড়াই শেষ। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সোমবার সকালে ইভিএম খুললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বাংলার মসনদে চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরছেন নাকি বাংলায় ফুটবে গেরুয়া ফুল। তবে রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের মতে, ২৯৪টি আসনের ফল বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই; শুধুমাত্র ডজন-জোড়া বিশেষ আসনের ফলাফল দেখলেই বোঝা যাবে বাংলার হাওয়া কোন দিকে।
১. শুভেন্দুর ডাবল ফাইট: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম বিজেপির বাজি শুভেন্দু অধিকারী এবার লড়ছেন জোড়া আসনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুভেন্দু যদি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুটিতেই জিতে যান, তবে রাজ্যে পরিবর্তন নিশ্চিত। আবার নন্দীগ্রামে জিতলেও ভবানীপুরে মমতার কাছে হারলে লড়াই হবে কাঁটায় কাঁটায়। আর দুই আসনেই শুভেন্দু হারলে চতুর্থবার তৃণমূলের সরকার গঠন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।
২. উত্তরের নির্ণায়ক: পানিহাটি ও বরানগর শহর লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগণার এই দুই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বরানগরে তৃণমূলের সায়ন্তিকাকে কড়া টক্কর দিচ্ছেন বিজেপির সজল ঘোষ। আবার পানিহাটিতে ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আবেগ তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এই দুই আসনের ফলই বলে দেবে টাইট লড়াইয়ের আসনগুলো শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের ঝুলিতে যায়।
৩. হাওড়ার দুর্গ: শিবপুর ও বালি পরিবর্তন চাইলে বিজেপিকে হাওড়া জেলায় থাবা বসাতে হবে। রুদ্রনীল ঘোষ (বালি) ও সঞ্জয় সিং-রা যদি জয় হাসিল করতে পারেন, তবেই দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরা সম্ভব হবে।
৪. সংখ্যালঘু ভোট ও ভাঙড়-ক্যানিং পূর্ব দক্ষিণবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের প্রধান শক্তি সংখ্যালঘু ভোট। এবার নওশাদ সিদ্দিকি (ভাঙড়) ও আরাবুল ইসলামদের (ক্যানিং পূর্ব) লড়াই ইঙ্গিত দেবে যে দিদির ভোটব্যাঙ্কে চিড় ধরল কি না। এখানে তৃণমূল ধাক্কা খেলে হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগণাতেও ভরাডুবি হতে পারে শাসকদলের।
৫. সিঙ্গুর ও তারকেশ্বর: হুগলির সমীকরণ ২০১৯-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে এবারও সিঙ্গুর ও তারকেশ্বরকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। সিঙ্গুরে বেচারাম মান্নাকে হারানো বিজেপির জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই তারকেশ্বরে জয় হবে তাদের শক্তির আসল পরীক্ষা।
৬. মেদিনীপুরের মেগা লড়াই পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ও খড়গপুর সদরের জয়-পরাজয় বলে দেবে জঙ্গলমহল লাগোয়া এই জেলায় ‘খেলা’ ঘুরেছে কি না। বিশেষ করে খড়গপুর সদর ধরে রাখা বিজেপির জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই।
৭. মালদা ও মুর্শিদাবাদের ‘পকেট’ মালতিপুর ও মোথাবাড়ির ফলাফল বলে দেবে মালদায় তৃণমূল কত বড় ধাক্কা খাচ্ছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে অধীর চৌধুরী (বহরমপুর) ও হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর) যদি ভালো ফল করেন, তবে বুঝতে হবে নবাবের জেলায় সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে।
৮. উত্তরের হাওয়া ও বীরভূমের দুর্গ কোচবিহারের দিনহাটা ও মাথাভাঙা যেমন উদয়ন গুহ ও নিশীথ প্রামাণিকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তেমনই বীরভূমে সিউড়ি ও রামপুরহাটে বিজেপি জিতলে অনুব্রতহীন জেলায় তৃণমূলের আধিপত্য শেষ হওয়ার ইঙ্গিত মিলবে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি ও ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে তৃণমূল যদি কামড় বসাতে পারে, তবে উত্তরবঙ্গে জোড়াফুলের আসন বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
৯. জঙ্গলমহলের পালস: শালতোড়া ও বিনপুর বাঁকুড়ার শালতোড়া এবং ঝাড়গ্রামের বিনপুরের ফলাফল সামগ্রিকভাবে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটের ট্রেন্ড বুঝিয়ে দেবে।





