বিপজ্জনক গরম আর বৃষ্টির আকাল! কৃষকদের বাঁচাতে আসরে যোগী, ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ জানলে অবাক হবেন!

২০২৬-এর খরিফ মরসুম শুরুর আগেই উত্তরপ্রদেশে ঘনিয়ে আসছে চরম আবহাওয়ার সংকট। একদিকে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কা, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পারদ। এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ রাজ্যের কৃষিজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকদের বাঁচাতে এবার সরাসরি ‘অ্যাকশন মোডে’ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পানীয় জল থেকে সেচ, আর স্বাস্থ্য থেকে ত্রাণ— একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করে প্রশাসনকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

খরাপ্রবণ ১৮ জেলায় ‘হাই অ্যালার্ট’ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন, মানুষের কষ্ট লাঘবে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের খরাপ্রবণ ১৮টি জেলার ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতির সূক্ষ্ম মূল্যায়ণ করে প্রয়োজনে এনডিআরএফ (NDRF)-এর সাহায্য নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। জেলা স্তর পর্যন্ত কন্ট্রোল রুমগুলিকে চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুকুরের মাটিতে মিলবে কর্মসংস্থান! এক অভিনব সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ৩০ মে-র মধ্যে সমস্ত খাল, পুকুর ও দিঘির পলি সাফাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। পুকুর থেকে তোলা এই উর্বর মাটি বিনামূল্যে কুমোর ও প্রজাপতি সম্প্রদায়ের মানুষদের হাতে তুলে দিতে হবে, যাতে গরমের মাঝেও তাঁদের হস্তশিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। ইতিমধ্য়েই রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর সংস্কার করে জল ভরাট করা হয়েছে।

সেচ ও পানীয় জলে ‘জিরো টলারেন্স’

  • কৃষকদের স্বস্তি: খালের জল যাতে একদম শেষ প্রান্ত (টেল) পর্যন্ত পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং নলকূপ মেরামতির কাজে কোনও ফাঁকি রাখা যাবে না।

  • পানীয় জলের বিকল্প: পাইপলাইনের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। মানুষ তো বটেই, বন্যপ্রাণী ও গোশালাগুলির জলের জোগানে যেন টান না পড়ে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী।

কালোবাজারি রুখতে ‘দাওয়াই’ দুর্ভিক্ষ বা অভাবের সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ খাদ্যশস্য মজুত বা কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেশন ব্যবস্থার (PDS) মাধ্যমে গরিব মানুষের কাছে সময়মতো খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

হিট স্ট্রোক মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুত তীব্র দাবদাহে অসুস্থ হওয়া বা হিট স্ট্রোকে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ বেড ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত ‘আপদা মিত্র’ বা বিপর্যয় মোকাবিলা স্বেচ্ছাসেবকদের নামানো হচ্ছে মাঠে, যারা আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেবেন।

যোগী আদিত্যনাথের এই ‘মাস্টার প্ল্যান’ উত্তরপ্রদেশকে আসন্ন খরা ও গরমের হাত থেকে কতটা রক্ষা করতে পারে, এখন সেটাই দেখার। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা নজর রাখছি উত্তর ভারতের এই আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy