মৃত্যুর মিছিল বারগিতে, এখনও নিখোঁজ ৫! সেনার অভিযানেও জল ঢালছে আবহাওয়া, ধ্বংসস্তূপ থেকে যা মিলল…

মধ্যপ্রদেশের বারগি বাঁধে পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ দুর্ঘটনার রেশ কাটছে না। দুর্ঘটনার পর আজ দ্বিতীয় দিনেও সেখানে হাহাকার আর উৎকণ্ঠার ছবি। নর্মদার বুকে প্রমোদ ভ্রমণের আনন্দ যে এভাবে নিমেষে বিষাদে পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত নদী থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে প্রশাসনের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে এখনও নিখোঁজ থাকা ৪ থেকে ৫ জন যাত্রী। তাঁদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে ধন্দ বাড়ছে।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ-এর (SDRF) প্রশিক্ষিত ডুবুরিরা জলে নামলেও প্রকৃতি বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাঁধের উপরিভাগে বইছে ঝোড়ো হাওয়া, যার ফলে নদীগর্ভে সৃষ্টি হচ্ছে বিশাল বিশাল ঢেউ। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারী নৌকাগুলি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। জলের গভীরতা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ডুবুরিদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

জেলা কালেক্টর রাঘবেন্দ্র সিং এবং বারগির বিধায়ক নীরজ সিং বর্তমানে খামারিয়া দ্বীপে ক্যাম্প করছেন। উদ্ধারকারী দলগুলিকে তদারকি করার পাশাপাশি কালেক্টর জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত ২৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাব।” এনডিআরএফ আধিকারিকদের মতে, দুর্ঘটনাকবলিত ক্রুজ জাহাজটিকে ইতিমধ্যেই তীরে আনা হয়েছে। জাহাজের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, যার অর্থ নিখোঁজরা সম্ভবত জলের তোড়ে ভেসে গেছেন অথবা গভীর খাদে আটকে পড়েছেন।

দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে খারাপ আবহাওয়া এবং প্রবল বায়ুপ্রবাহকে দায়ী করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পুরো এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধারকার্যে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক সোনার সরঞ্জাম এবং শক্তিশালী নৌকা। নর্মদার এই রুদ্ররূপের মাঝে নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ আশা নিয়ে খামারিয়া দ্বীপের তীরে প্রহর গুনছেন নিখোঁজদের আত্মীয়স্বজনরা। গোটা এলাকায় এখন চাপা উত্তেজনা আর শোকের ছায়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy