দল ছাড়তেই বিপাকে সন্দীপ পাঠক! দুর্নীতির পর এবার নারী নিগ্রহের বিস্ফোরক অভিযোগ, বাড়িতে হানা পুলিশের

আম আদমি পার্টি (এএপি) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্যসভা সাংসদ সন্দীপ পাঠকের রাজনৈতিক জীবন যেন চরম সঙ্কটের মুখে। পাঞ্জাব পুলিশের সাঁড়াশি আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, দুর্নীতির পাশাপাশি নারী নিগ্রহের মতো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি ও পাঞ্জাব পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যেই পাঠকের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলেছে। তাঁর বাড়ির বাইরে বসানো হয়েছে কড়া ব্যারিকেড।

অ-জামিনযোগ্য ধারায় মামলা:
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি অত্যন্ত গুরুতর। একটি এফআইআর-এ সরকারি আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যটিতে এক মহিলার শ্লীলতাহানি ও শোষণের অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দুটি মামলাই জামিন অযোগ্য ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশের তৎপরতা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে গ্রেপ্তারি এখন সময়ের অপেক্ষা।

নিখোঁজ সাংসদ:
তদন্তকারী দল যখন দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে পৌঁছায়, তার ঠিক আগেই সন্দীপ পাঠক বাড়ি থেকে চম্পট দেন বলে জানা গেছে। তবে টেলিফোনে তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর হয়েছে কি না সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, গ্রেপ্তার এড়াতেই বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা।

কেন সন্দীপ পাঠক এত গুরুত্বপূর্ণ?
২০২২ সালে পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে মূল কারিগর বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হতো আইআইটির প্রাক্তন অধ্যাপক সন্দীপ পাঠককে। গত এপ্রিলে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত হন। দলের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে তাঁর বিকল্প ছিল না। সম্প্রতি রাঘব চড্ডার সাথে আরও সাতজন সাংসদ মিলে আপ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। কিন্তু গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর কয়েক দিনের মধ্যেই এই আইনি জটিলতা পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy