“৬ মাস পর খুঁজলেও তৃণমূলকে পাওয়া যাবে না!”-শমীকের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য

৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। একদিকে যখন ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় স্ট্রংরুম পাহারা দিচ্ছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সেনাপতিরা, ঠিক তখনই রাজ্যে তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ দাবি, “আগামী ৬ মাসের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস নামে কোনো রাজনৈতিক দলের চিহ্নও থাকবে না পশ্চিমবঙ্গে।”

‘মমতাজি হার হজম করতে পারছেন না’ বিজেপি রাজ্য সভাপতির মতে, আসন্ন পরাজয় নিশ্চিত জেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানসিক চাপে রয়েছেন। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “দিদি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারছেন না যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে। তিনি এখন যা দেখছেন তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। আর সেই ভয় থেকেই ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নাটক করছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, ৪ মে ফলাফল আসার সঙ্গেই ‘দিদি’-র রাজনৈতিক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটবে।

তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা? সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে তৃণমূলের প্রতি আর কোনো আবেগ অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন কী করেছেন তা মানুষ জানে। এখন তাঁর কথার কোনো গুরুত্ব নেই। কেবল একটি সরকার যাচ্ছে না, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলও খতম হচ্ছে।” ৬ মাসের চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি জানান, এই দলটির বিনাশ এখন সময়ের অপেক্ষা।

স্ট্রংরুম নিয়ে তরজা তুঙ্গে উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম পাহারা দিতে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে দীর্ঘ সময় কাটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালেও একই ছবি দেখা যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে, যেখানে কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজাকে সিসিটিভি ফুটেজে কড়া নজর রাখতে দেখা গেছে। তৃণমূলের এই অতি-সতর্কতাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি শিবির। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসের দাবি, ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং তৃণমূল অহেতুক উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

গণনার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। একদিকে বিজেপির ‘পরিবর্তনের’ হুঙ্কার, অন্যদিকে তৃণমূলের ‘পাহারা’— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy