তরমুজ না কি বিষ? মুম্বইয়ে গোটা পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতিতে কাঁপছে দেশ, আপনিও কি লাল দেখে কিনছেন?

তীব্র গরমে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ যেন অমৃত। কিন্তু সেই অমৃতই কি এখন প্রাণঘাতী বিষে পরিণত হচ্ছে? মুম্বইয়ের একটি মর্মান্তিক ঘটনা সম্প্রতি দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, তরমুজ খাওয়ার পর একটি গোটা পরিবারের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই তরমুজে রাসায়নিক ও বিষাক্ত রঙ প্রয়োগ নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরা। বাজারে তরমুজ বিক্রিতেও ব্যাপক ধস নেমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি থেকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে তরমুজ একাধিকবার বিপজ্জনক প্যাথোজেনের সংস্পর্শে আসে। সালমোনেলা, ই-কোলাই (E.Coli), লিস্টেরিয়া বা নোরোভাইরাসের মতো ব্যাকটিরিয়া তরমুজকে বিষাক্ত করে তুলতে পারে। তবে এর চেয়েও বড় বিপদ হল অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম রঙ ও রাসায়নিক প্রয়োগ। ভারতের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ (FSSAI) এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং গুণমান যাচাইয়ের কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে।

কীভাবে চিনবেন বিষাক্ত তরমুজ?

অনেকে মনে করেন তরমুজ যত লাল, তত মিষ্টি। কিন্তু আসলে প্রাকৃতিক তরমুজের শাঁসের রঙ হয় কিছুটা গোলাপি আভা যুক্ত। যদি তরমুজের শাঁস অস্বাভাবিক লাল ও চকচকে হয়, তবে বুঝবেন এতে রঙ মেশানো হয়েছে। পরীক্ষার জন্য তরমুজ কেটে একটি সাদা টিস্যু বা তুলো দিয়ে শাঁসের ওপর আলতো চাপ দিন। টিস্যু লাল হয়ে গেলে সেই তরমুজ সরাসরি বর্জন করুন। এছাড়া এক বাটি জলে তরমুজের টুকরো ফেলে রাখুন; জল লাল হয়ে গেলে বুঝবেন তাতে বিষাক্ত রঙ রয়েছে।

তরমুজ কেনার সময় তার বাইরের অংশটিও লক্ষ্য করুন। যদি তরমুজের গায়ে হলদেটে বা কমলা দাগ থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটি মাটিতে থেকে স্বাভাবিকভাবে পেকেছে। কিন্তু সাদা বা সবুজ ছোপ থাকলে সেটি কাঁচা অবস্থায় তুলে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হতে পারে। বীজের রঙ কালো বা গাঢ় বাদামি হওয়া প্রাকৃতিক ফলনের লক্ষণ। শাঁস যদি সেদ্ধ আলুর মতো চটচটে হয় বা মাঝখানে বড় ফাটল থাকে, তবে সেটি না কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি:

বাজার থেকে কেনা তরমুজ কাটার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। পরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করুন এবং আগে থেকে কেটে রাখা খোলা তরমুজ একেবারেই কিনবেন না। তরমুজ খাওয়ার সেরা সময় হল দিনের বেলা বা দুপুর। রাতে কাটা তরমুজ খেলে পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়া হতে পারে। মনে রাখবেন, সচেতনতাই আপনার পরিবারের শ্রেষ্ঠ সুরক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy