পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণ পর্ব আপাতত সাঙ্গ। দুই দফার নির্বাচনে রাজ্যের ভোটারদের রায় এখন ইভিএম-এ বন্দি। আর সেই বন্দি রায় যাতে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য এবার বেনজির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের ১৯ মার্চের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোট মিটলেও বাংলা থেকে এখনই সরছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। বরং ৭০০ কোম্পানি সিএপিএফ (CAPF) জওয়ানদের ওপর রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে কমিশন এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের পাহারায় নিয়োজিত ২০০ কোম্পানি বাহিনীর বিন্যাসও বেশ নজরকাড়া। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ২০ কোম্পানি বিএসএফ, ১৫ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৫ কোম্পানি এসএসবি। জানা গেছে, প্রতিটি স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় ১২ থেকে ১৮ জন সশস্ত্র জওয়ান সর্বক্ষণ মোতায়েন থাকছেন। এর পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা হিসেবে উত্তরবঙ্গের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় ওয়েব কাস্টিং ক্যামেরা যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য জেনারেটরের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২০১৬ সালে সংখ্যাটি ছিল ৯০ এবং ২০২১ সালে ছিল ১০৮। তবে ২০২৬-এর এই মহারণে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভোট গণনা হবে মাত্র ৮৭টি কেন্দ্রে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং নিখুঁত ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত ইভিএম-এর প্রতিটি স্পন্দন পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নজর কাড়ছে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।





