বঙ্গোপসাগরে ড্রাগনের যম! ডিআরডিও-র নতুন মিসাইল হানায় কাঁপল সমুদ্র, চাণক্য চালে কুপোকাত শত্রুপক্ষ!

ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক দিন! সমুদ্রসীমানায় শত্রু দেশের রণতরী বা সাবমেরিন দমনে এবার আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল ভারত। উড়িষ্যার চাঁদিপুর উপকূলে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে গর্জে উঠল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘নেভাল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল-শর্ট রেঞ্জ’ (NASM-SR)। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং ভারতীয় নৌবাহিনী যৌথভাবে এই প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্রটির ‘স্যালভো’ উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

কী এই স্যালভো উৎক্ষেপণ?
সাধারণত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর লক্ষ্যবস্তুর পরিস্থিতি বোঝা হয়। কিন্তু ‘স্যালভো’ পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম (এক্ষেত্রে নৌ-হেলিকপ্টার) থেকে অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বা তার বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই বিধ্বংসী পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সমুদ্রের নির্দিষ্ট উচ্চতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুর জলরেখায় (Waterline) গিয়ে একদম নিখুঁতভাবে আছড়ে পড়েছে। রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেম এবং টেলিমেট্রির মাধ্যমে প্রতিটি সেকেন্ডের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির ম্যাজিক:
হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক ইমারাত গবেষণা কেন্দ্র (RCI) এবং ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীদের নিখুঁত কারিগরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এতে রয়েছে:

অত্যাধুনিক নেভিগেশন: ফাইবার-অপটিক জাইরোস্কোপ-ভিত্তিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থা।

হাই-টেক ডেটা লিঙ্ক: উচ্চ-ব্যান্ডউইথ সম্পন্ন দ্বি-মুখী ডেটা লিঙ্কের মাধ্যমে মাঝ আকাশেও ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পাওয়ারফুল বুস্টার: সলিড প্রোপালশন বুস্টার এবং লং-বার্ন সাসটেইনার একে মাঝ সমুদ্রে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য ডিআরডিও এবং নৌবাহিনীকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মিসাইল অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণাত্মক ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে গেল। ডিআরডিও প্রধান সমীর ভি. কামাতও বিজ্ঞানী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে একে আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy