ভোটের দিন রণক্ষেত্র বাসন্তী! হামলার মুখে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার, কেন নীরব ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী?

বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের শুরুতেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র। ৭৬ নম্বর বুথ পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। শুধু গাড়ি ভাঙচুর নয়, তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

কী ঘটেছিল বাসন্তীর ৭৬ নম্বর বুথে?

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভোট চলাকালীন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার বুথে পৌঁছানো মাত্রই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগের তির শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। চোখের পলকে প্রার্থীর গাড়িতে লাঠি ও ইঁট নিয়ে হামলা চালানো হয়। ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় গাড়ির কাঁচ।

বিকাশ সর্দারের বিস্ফোরক অভিযোগ:

“ওরা শুধু আমার গাড়ি ভাঙচুর করেনি, আমার সাথে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের থেকে বন্দুক কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেছে। অথচ অবাক করার মতো বিষয় হলো, সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এদিন রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, বাহিনী সক্রিয় থাকলে দুষ্কৃতীরা এত বড় সাহস পেত না। বাহিনীর এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

তৃণমূলের পাল্টা দাবি: ‘পরিকল্পিত নাটক’

যদিও হামলার সমস্ত অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় ঘাসফুল শিবিরের নেতাদের দাবি:

  • বাসন্তীতে ভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হচ্ছে।

  • এটি বিজেপির একটি সাজানো নাটক, হার নিশ্চিত জেনেই তারা অশান্তি ছড়াতে চাইছে।

  • ভোটারদের সহানুভূতি পেতেই গাড়ি ভাঙচুর করে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রার্থী।

বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy