পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘গড়’-এ এবার বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের জন্য উত্তরপ্রদেশে যিনি ‘সিংহাম’ নামে পরিচিত, বুধবার ভোটের ময়দানেও তাঁকে দেখা গেল রুদ্রমূর্তিতে। তাঁর কড়া নজরদারি আর সরাসরি হুঁশিয়ারিতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে ‘সিংহাম’
ভোটের ঠিক আগে ফাল্টা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে পৌঁছে যান অজয় পাল শর্মা। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভোটারদের ভয় দেখানোর কোনো অভিযোগ পেলে প্রশাসন এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কড়া ব্যবস্থা নেবে। এরপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তৃণমূলের অভিযোগ, একজন বিশেষ পর্যবেক্ষক হয়ে তিনি নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন এবং দলীয় কর্মীদের অযথা ‘ভয়’ দেখাচ্ছেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
দুষ্কৃতীদের প্রতি কড়া বার্তা
নির্বাচন কমিশন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চলকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে ঘোষণা করেছে। বুধবার সকাল থেকেই অজয় পাল শর্মাকে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সন্দেহভাজন উপদ্রবীদের সামনে পেয়ে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না।” তাঁর এই সক্রিয়তা যেমন ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তেমনই বিড়ম্বনায় ফেলেছে রাজনৈতিক দলগুলিকে।
মাঠে নেমেছে CRPF-এর শীর্ষ নেতৃত্ব
কেবল অজয় পাল শর্মা নন, ডায়মন্ড হারবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সশরীরে হাজির হন সিআরপিএফ-এর মহানির্দেশক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। তিনি মোতায়েন থাকা জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের মনোবল বাড়াতে লজিস্টিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। উল্লেখ্য, এই জেলায় বিগত কয়েক দিনে হিংসার যে আবহ তৈরি হয়েছিল, তা রুখতে অজয় পালের নেওয়া পদক্ষেপগুলিকেই তৃণমূল ‘অতিসক্রিয়তা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও বুধবার বিকেল পর্যন্ত এই সংবেদনশীল এলাকা থেকে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। এখন নজর ৪ মে-র দিকে, যেদিন জানা যাবে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল।





