২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই শুরু হয়েছে শতাংশের চুলচেরা বিশ্লেষণ। রেকর্ড ভোটদান কার অনুকূলে যাবে—তৃণমূল না বিজেপি? তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চলছে তুমুল বাগযুদ্ধ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।
নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ইতিমধ্যেই ১১০টি আসনে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে। তাঁর মতে, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং বুথ ফেরত তথ্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। শাহের এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ বঙ্গ বিজেপির কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
পাল্টা দিতে দেরি করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শাহের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি একে ‘প্রতিশোধের ভোট’ বলে অভিহিত করেছেন। অভিষেক বলেন, “কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং এজেন্সির রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষ ব্যালটে জবাব দিয়েছে। ৪ তারিখ (ভোট গণনার দিন) বেলা ১২টার পরেই আসল ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে কারা জেতে আর কারা হার মানে।”
প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের বেশি ভোটদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দুই ধরনের মত রয়েছে। বিজেপির দাবি, উচ্চ হার মানেই প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের টানে মহিলারা দলে দলে ভোট দিয়েছেন, যা তৃণমূলের জয়ের পথ প্রশস্ত করবে। ১১০ আসনের আত্মবিশ্বাস না কি ১২টার পরের ‘প্রতিশোধ’—বাংলার ক্ষমতা কার দখলে থাকে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।





