রবিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ওড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল একটি যাত্রীবাহী বিমানের ইঞ্জিনে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ২২৮ জন যাত্রী এবং ১৩ জন বিমানকর্মী। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে খবর।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রাত তখন ১টা বেজে ৮ মিনিট। জুরিখগামী SWISS ইন্টারন্যাশনালের ‘LX147’ (এয়ারবাস A330) বিমানটি রানওয়েতে টেকঅফের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গতি বাড়িয়ে আকাশে ওড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে হঠাৎই বিকট শব্দে বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিপদ বুঝে কালবিলম্ব না করে পাইলট টেকঅফ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এমার্জেন্সি ব্রেক কষেন।
উদ্ধারকাজ ও আতঙ্ক:
বিমানের ভেতর তখন তীব্র আতঙ্ক। তড়িঘড়ি এমার্জেন্সি স্লাইডের মাধ্যমে যাত্রীদের নামানোর কাজ শুরু হয়। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়েই ছয়জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিমানে ২২৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছাড়াও ৪টি শিশু ছিল, যারা আপাতত সুরক্ষিত। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন এবং উদ্ধারকারী দল। বিমানবন্দরে জারি করা হয় সাময়িক জরুরি অবস্থা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
SWISS এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণেই ইঞ্জিনে আগুন লেগেছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সুইজারল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ দল দিল্লি আসছে। যাত্রীদের জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিকল্প বিমানে তাঁদের জুরিখ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে রাতের অন্ধকারে এই দুর্ঘটনা দিল্লির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক তদারকি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।





