আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে যে সমস্যাটি ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে, তা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। তবে যখন এই সমস্যা সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ বা মলত্যাগের সময় তীব্র যন্ত্রণার রূপ নেয় এবং দিনের পর দিন চলতে থাকে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকেই বলা হয় দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ক্রনিক কনস্টিপেশন। এটি কেবল একটি শারীরিক অস্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘ সময় অবহেলা করলে এটি পাইলস বা কোলন ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য আসলে কী?
সাধারণত কয়েক দিন পেট পরিষ্কার না হওয়াকে আমরা সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য বলি। কিন্তু যখন এই সমস্যা কয়েক সপ্তাহ বা মাসের পর মাস স্থায়ী হয় এবং প্রাত্যহিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, তখনই তাকে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। এক্ষেত্রে মল অত্যন্ত শক্ত হয়ে যায় এবং পেট সবসময় ভারী অনুভূত হয়।
মূল কারণসমূহ:
১. ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবারের অভাব: আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলের পরিমাণ কমে গেলে অন্ত্রের চলন ধীর হয়ে যায়।
২. অপর্যাপ্ত জলপান: শরীরে জলের অভাব হলে মল শক্ত হয়ে যায়, যা নির্গমনে বাধা সৃষ্টি করে।
৩. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: অলস জীবনযাপন বা ব্যায়াম না করার ফলে হজমপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. মলত্যাগের ইচ্ছা চেপে রাখা: অনেকেই ব্যস্ততার কারণে বা অলসতা করে মলত্যাগের বেগ চেপে রাখেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৫. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু নির্দিষ্ট ব্যথানাশক ওষুধ, ক্যালসিয়াম বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট এবং অবসাদরোধী ওষুধের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।
৬. শারীরিক জটিলতা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা অন্ত্রের কোনও ব্লকেজ থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।
বাঁচার উপায়:
প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় হোল-গ্রেন, ওটস ও পর্যাপ্ত সবুজ সবজি রাখুন। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটাচলা করার অভ্যাস গড়ুন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ এটি শরীরের অন্তর্নিহিত অন্য কোনও বড় রোগের সংকেত হতে পারে।





