বিশ্বের তেলপথে মহাসংকট! ট্রাম্পের অবরোধ বনাম ইরানের শর্ত, হরমুজ দিয়ে কেন যেতে ভয় পাচ্ছে মালবাহী জাহাজ?

সোমবার পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, সেই ঘোষণার পর সমুদ্রপথে স্বস্তির বদলে বিভ্রান্তি আর আতঙ্ক বেড়েছে। শুক্রবার দেখা গিয়েছে, প্রায় ২০টি জাহাজ প্রণালীর দিকে এগিয়েও মাঝপথ থেকে মুখ ঘুরিয়ে ফিরে এসেছে।

কেন ফিরছে জাহাজ?

খাতা-কলমে প্রণালী উন্মুক্ত হলেও বাস্তবে ছবিটা আলাদা। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • নিরাপত্তার অভাব: আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলো বলছে, এখনও চলাচলের জন্য স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। সমুদ্রে লুকানো মাইন বা বিস্ফোরকের আতঙ্ক কাটেনি।

  • শনাক্তকরণ ব্যবস্থার লুকোচুরি: হামলার ভয়ে অনেক জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখছে, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলছে।

  • মাঝপথ থেকে ইউ-টার্ন: ফরাসি সংস্থা ‘সিএমএ সিজিএম’-এর ৩টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ-সহ একাধিক ট্যাঙ্কার গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ট্রাম্পের হুঙ্কার ও ইরানের কড়া শর্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত। তবে তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি—ইরান পারমাণবিক চুক্তি না মানা পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। ইতিমধ্যে ২১টি জাহাজকে মাঝসমুদ্র থেকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’।

অন্যদিকে, ইরানও শর্তের পাহাড়া বসিয়েছে:

  • সীমিত অনুমতি: শুধুমাত্র ইজরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চলাকালীন বাণিজ্যিক জাহাজ চলতে পারবে।

  • নির্দিষ্ট রুট: জাহাজগুলোকে ইরানের ঠিক করে দেওয়া নির্দিষ্ট পথ দিয়ে চলতে হবে।

  • সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা: কোনো সামরিক বা বৈরী দেশের জাহাজকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

বিপন্ন বিশ্ব অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালী থমকে যাওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির হাহাকার। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি (LNG) গ্যাসের ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই যায়। সংঘাতের আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩৮টি জাহাজ চলত, গত মার্চে সেই সংখ্যা ১০০-র নিচে নেমে এসেছিল। বর্তমানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির।

সব নজর এখন পাকিস্তানে

সোমবার পাকিস্তানের বৈঠকে কোনো রফাসূত্র বেরোয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। মার্কিন সামরিক পাহারায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার চালানোর পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে। তবে যতদিন না দুই দেশ সংঘাতের পথ ছেড়ে সমঝোতায় আসছে, ততদিন হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এক গভীর ‘ডেথ ট্র্যাপ’ হয়েই রইল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy