কূটনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—সেটাই যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিল ওয়াশিংটন। মাত্র দু’দিন আগেই আমেরিকা জানিয়েছিল, রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কিন্তু শুক্রবার রাতে আচমকাই সুর বদলে গেল হোয়াইট হাউসের। মার্কিন অর্থ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য কেনায় কোনো বাধা থাকবে না।
ভারতের জন্য কেন এটি ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য এই ছাড় কেন গুরুত্বপূর্ণ, দেখে নিন:
ইরানি তেলের বিকল্প: ইরানের ওপর মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ রবিবারই শেষ হচ্ছে। ঠিক তার আগেই রুশ তেলের দরজা ফের খুলে যাওয়ায় ভারতের শোধনাগারগুলোর চিন্তা কমল।
হরমুজ প্রণালীর সংকট: ভারত তার তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করে, যা এখন যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। রাশিয়ার বিকল্প পথটি এই মুহূর্তে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাশিয়ার তেলের জোগান ভারতের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।
মার্চে আমদানিতে রেকর্ড উল্লম্ফন
একটি ইউরোপীয় থিংক-ট্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মাসেই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।
হিসেব নিকেশ: ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোতে রুশ তেল কেনার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৪৮ শতাংশ।
চীনকে টেক্কা: বর্তমানে চীন (৫১ শতাংশ) রুশ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হলেও, ভারত (৩৮ শতাংশ) এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
চ্যালেঞ্জ কোথায়?
তবে ভারত আগে যে বিপুল পরিমাণ ‘ডিসকাউন্ট’ বা ছাড়ে রাশিয়ার তেল পেত, এবার হয়তো সেই সুবিধা কিছুটা কম হতে পারে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়াও তেলের দাম বাড়াতে শুরু করেছে।
তবুও, যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে ট্রাম্পের এই ‘পাল্টি’ ভারতের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। আপাতত ১৬ মে পর্যন্ত ভারতের তেলের ভাণ্ডার নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা রইল না।





