লোকসভায় ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে মোদী সরকারের ব্যর্থতাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে দেগে দিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, দেশের সংসদীয় পরিকাঠামো বদলে দেওয়ার এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার এক গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি, যা বিরোধীদের ঐক্যের জোরে বিফল হয়েছে।
‘শাসকদলের নেতাদের মুখ শুকিয়ে গিয়েছে’: বিগত ১৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভোটাভুটিতে কেন্দ্রের শাসকদলকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। এই জয়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “সংবিধান বিরোধী ঐক্যের প্রভাব আজ শাসকদলের নেতাদের মুখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতার মোহে হঠাৎ অধিবেশন ডেকে যে ষড়যন্ত্র তারা করেছিল, তা আজ চুরমার।” তাঁর দাবি, বিল পাশ হলেও বিজেপি কৃতিত্ব নিত, আর না হলেও বিরোধীদের দোষ দিত—কিন্তু সেই সহজ সুযোগ এবার আর তারা পায়নি।
কেন বিরোধীদের এই তীব্র আপত্তি? প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মূল নিশানা ছিল মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে আসন পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন জুড়ে দেওয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন:
যে সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান দেয় না, তারা কীভাবে লোকসভার আসন সংখ্যা নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার সুযোগ পেতে পারে?
মহিলা সংরক্ষিত আসনের বাহানায় আসলে দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল বিজেপি।
পুরানো বিল ফেরানোর চ্যালেঞ্জ: বিজেপিকে পাল্লা দিয়ে প্রিয়াঙ্কা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আপনারা যদি সত্যিই মহিলাদের ক্ষমতায়ন চান, তবে ২০২৩ সালের বিলটি ফিরিয়ে আনুন। যেখানে বলা ছিল বর্তমান আসনের মধ্যেই মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া হবে। আমরা সেই বিলকে পূর্ণ সমর্থন করব।”
প্রিয়াঙ্কার মতে, বিরোধীরা এক হলে যে পাহাড়প্রমাণ বাধা টপকানো সম্ভব, লোকসভার এই ফল তারই প্রমাণ। এই পরাজয় এনডিএ সরকারের জন্য এক বড় ধাক্কা এবং ভারতের গণতন্ত্রের জন্য এক শুভ দিন বলে মনে করছেন তিনি।





