মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প অ্যারিজোনায় দেওয়া ভাষণে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত সাতটি ডাহা মিথ্যে কথা বলেছেন। এই বাগযুদ্ধের আবহে কালিবাফ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান। যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের জন্য এক অশনি সংকেত।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কিন্তু এই দাবিকে নস্যাৎ করে কালিবাফ জানিয়েছেন, প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে কি না তা সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নয়, বরং ‘মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি’ এবং মার্কিন পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। ইরানের কড়া অবস্থান হলো—মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে কোনোভাবেই যাতায়াত সহজ হবে না এবং প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই জানিয়েছেন, পার্লামেন্টে একটি বিশেষ বিল আনার প্রক্রিয়া চলছে যার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করা। ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আশ্বাসে সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও, ইরানের এই নতুন হুঁশিয়ারি ফের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।





