ধৈর্য আর নিয়মিত বিনিয়োগই আসল চাবিকাঠি—পিপিএফ থেকে ১ কোটি টাকা জমানোর সিক্রেট ফর্মুলা

নিরাপদ বিনিয়োগের কথা উঠলে আজও সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ পিপিএফ (Public Provident Fund)। ঝুঁকিহীন এবং করমুক্ত রিটার্ন পাওয়ায় এই স্কিমটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে অনেকেই প্রশ্ন করেন, পিপিএফ-এ টাকা জমিয়ে কি সত্যিই কোটিপতি হওয়া সম্ভব? উত্তর হলো—হ্যাঁ, সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্য।

১ কোটির ম্যাজিক হিসেব: বর্তমানে পিপিএফ-এ সুদের হার ৭.১%। এই সুদের হারে ১ কোটি টাকার তহবিল গড়তে হলে আপনাকে সরকারের দেওয়া সর্বোচ্চ সীমার পুরো সুবিধা নিতে হবে।

  • বার্ষিক বিনিয়োগ: ১.৫ লক্ষ টাকা (অর্থাৎ মাসে ১২,৫০০ টাকা)।

  • প্রাথমিক মেয়াদ: ১৫ বছর।

  • কোটিপতি হওয়ার সময়সীমা: ১৫ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আপনাকে আরও ৫ বছরের দুটি ব্লকে এবং ৫ বছরের একটি আংশিক ব্লকে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ মোট ২৫ বছর নিয়মিত ১.৫ লক্ষ টাকা জমা করলে আপনার হাতে আসবে প্রায় ১.০৩ কোটি টাকা

হিসেবটি একনজরে:

  • মোট জমা টাকা (২৫ বছরে): ৩৭.৫ লক্ষ টাকা।

  • মোট অর্জিত সুদ: প্রায় ৬৫.৫ লক্ষ টাকা।

  • ম্যাচুরিটি ভ্যালু: ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকার বেশি।


পিপিএফ-এর ৪টি বিশেষ সুবিধা (EEE সুবিধা):

পিপিএফ-কে বলা হয় EEE (Exempt-Exempt-Exempt) ক্যাটাগরির বিনিয়োগ। এর অর্থ হলো: ১. বিনিয়োগে ছাড়: বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ওপর আয়কর আইনের 80C ধারায় ছাড় পাওয়া যায়। ২. সুদে ছাড়: এই অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া সুদের ওপর কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। ৩. ম্যাচুরিটিতে ছাড়: মেয়াদ শেষে যখন পুরো টাকাটা তুলবেন, তার ওপর কোনো কর দিতে হবে না। ৪. চক্রবৃদ্ধি সুদ (Compounding): প্রতি বছর আপনার সুদের ওপর সুদ যোগ হতে থাকায় দীর্ঘমেয়াদে টাকার অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।

মনে রাখবেন: পিপিএফ অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ১৫ বছর হলেও, আপনি যদি বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে চান তবে ফর্ম-এইচ (Form-H) জমা দিয়ে ৫ বছরের ব্লকে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন। ১ কোটি টাকার লক্ষ্যে পৌঁছাতে এই মেয়াদ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy