শাহের হুঙ্কার! সংবিধানে নেই ধর্মীয় সংরক্ষণ, তবে কেন মুসলিম কোটার দাবি? লোকসভায় বিরোধীদের ‘ভ্রম’ ভাঙলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লোকসভায় নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিরোধীদের কড়া আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তর-দক্ষিণ ভারত ভাগ করার যে ন্যারেটিভ বিরোধীরা তৈরি করছে, তা দেশের একতার জন্য ক্ষতিকর বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে কেন ২০২৯ সালের আগে এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব নয়, তার গাণিতিক ও সাংবিধানিক যুক্তিও আজ লোকসভায় তুলে ধরেন তিনি।

ভোটের মূল্যে কেন এই বৈষম্য? অমিত শাহ আজ সংসদে ভোটার-প্রতি-সাংসদ (Voter-per-MP) অনুপাতের একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেন। তিনি জানান:

  • দেশে বর্তমানে এমন ১২৭টি আসন রয়েছে যেখানে ২০ লাখের বেশি ভোটার।

  • কোথাও ১ জন সাংসদ ৩৯ লাখ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন, আবার কোথাও সেই সংখ্যা মাত্র ৬০ হাজার।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এর ফলে প্রতিটি ভোটারের ভোট প্রদানের ‘মূল্য’ সমান থাকে না। এই বৈষম্য দূর করতেই ২০২৬ সালের পর জনশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) অপরিহার্য।

ইন্দিরা গান্ধী সরকারের রেফারেন্স ও ২০২৯-এর লক্ষ্য বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে শাহ বলেন, “অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এখনই কেন পরিসীমন আনা হচ্ছে? আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারই এই আসন সংখ্যা ফ্রিজ করে গিয়েছিল। আমরা নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের মাধ্যমে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে চাইছি।”

মুসলিম সংরক্ষণ নিয়ে কড়া বার্তা মুসলিম মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণের দাবি নিয়ে বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানান:

“কিছু সদস্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যে মুসলিম মহিলাদেরও আলাদা সংরক্ষণ দেওয়া হবে। আমি পরিষ্কার করে দিতে চাই, ভারতের সংবিধান ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না। ইন্ডি অ্যালায়েন্স তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্য এই দাবি তুলছে।”

বিলের ৩টি প্রধান উদ্দেশ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিলের তিনটি মূল লক্ষ্যের কথা জানান: ১. সময়বদ্ধ রূপায়ন: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন যাতে মহিলা সংরক্ষণের মাধ্যমেই হয়। ২. সম-অধিকার: ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য’ নীতি কার্যকর করা। ৩. প্রতিনিধিত্ব: জনসংখ্যা অনুযায়ী সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যাতে একজন সাংসদ তাঁর ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

শাহের এই বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কেন্দ্র ২০২৬ সালের জনশুমারির পরই নতুন সংসদীয় আসনের ভিত্তিতে মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy