বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল, তা কাটানোর এক শেষ চেষ্টা শুরু হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে ফিরছে আমেরিকা ও ইরান। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা।
ট্রাম্পের বার্তা ও পর্দার আড়ালের প্রস্তুতি: যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের কথা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে পর্দার আড়ালে বড়সড় প্রস্তুতি চলছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তেহরান এই দাবিতে এখনই সিলমোহর দিচ্ছে না। ইরানের আধিকারিকদের মতে, বিশ্বাসের অভাব এখনও বড় বাধা।
বৈঠকের প্রধান দুই ‘কাঁটা’: ১. হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তৈলবাহী পথটি বর্তমানে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। ইরান পথটি খোলা রাখার দাবি করলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল নগণ্য। ইরানের সংসদের স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আমেরিকা যদি নৌ অবরোধ না তোলে, তবে ফের এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২. লেবানন ও হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ: ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বর্তমানে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চললেও লেবানন বারবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে স্থায়ী শান্তি অসম্ভব।
কেন এই বৈঠকটি ‘ডু অর ডাই’? পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষের পথে। সোমবারের আলোচনায় যদি কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র না বেরোয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় মাপের সংঘাত শুরু হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের দিকে— সেখান থেকে শান্তির পায়রা ওড়ে নাকি যুদ্ধের দামামা বাজে, সেটাই দেখার।





