আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নাগরিক অধিকার তথা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান, কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম নেই! এই অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হয়ে এবার সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন খোদ এক আইনজীবী। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম ডিলিট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন ভোটদানে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।
ঘটনাটি ঠিক কী? কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী গোলাম মহিউদ্দিনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল তাঁর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে গত ৫ এপ্রিল তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কাছে আপিল করেছিলেন। কিন্তু ভোটের মুখে হাতে সময় কম থাকলেও এখনও সেই আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি নিয়ে তিনি হাইকোর্টের কড়া নাড়েন।
আদালতে সওয়াল-জবাব: এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলাটি উঠলে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “আবেদনকারী ৫ এপ্রিল থেকে অপেক্ষা করছেন। ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেওয়া হোক যাতে দ্রুত এই বিষয়ের ফয়সালা হয়।”
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনলেও সরাসরি কোনো নির্দেশ দিতে কিছুটা সংযত থাকেন। তিনি মন্তব্য করেন:
“এইভাবে সরাসরি নির্দেশ দিলে আদালতের দরজা (ফ্ল্যাড গেট) সবার জন্য খুলে যাবে এবং ট্রাইব্যুনাল সমস্যায় পড়বে। তবে ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে এই আইনজীবীর আবেদনের দ্রুত শুনানি করা হয়।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গতকালই সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
প্রথম দফার ভোটের জন্য ২১ এপ্রিলের মধ্যে নাম নিষ্পত্তি হলে ভোট দেওয়া যাবে।
দ্বিতীয় দফার জন্য সময়সীমা ২৭ এপ্রিল।
রাজ্যে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোটগ্রহণ। এমন টানটান উত্তেজনার আবহে একজন আইনজীবীর নিজের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এই লড়াই এখন আইনি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শেষ পর্যন্ত গোলাম মহিউদ্দিন কি ২৩ তারিখ বুথে গিয়ে বোতাম টিপতে পারবেন? নজর এখন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের দিকে।





