আইআইটি বিটেক, উপজাতি কোটায় প্রথম; সেই ‘ট্যালেন্টেড’ এসডিএম কাজল এখন শ্রীঘরে!

সাফল্যের শিখর থেকে দুর্নীতির অতল গহ্বরে পতন! আইআইটি মান্ডি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিটেক, রাজস্থান প্রশাসনিক পরিষেবা (RAS) পরীক্ষায় উপজাতি কোটায় প্রথম স্থান— মেধার এমন উজ্জ্বল রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হলো না। ৬০,০০০ টাকার ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে শ্রীঘরে গেলেন রাজস্থানের নাদৌতির এসডিএম কাজল মীনা।

কী ঘটেছিল সেই দিন? দুর্নীতি দমন শাখা (ACB) সূত্রে খবর, একটি জমি সংক্রান্ত বিবাদের চূড়ান্ত রায় বা ‘ডিক্রি’ দেওয়ার বিনিময়ে অভিযোগকারীর কাছে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন কাজল মীনা। পরে রফা হয় ৫০ হাজার টাকায়। এসিবি একটি জাল পেতে কাজল মীনা, তাঁর একজন পাঠক এবং ইউডিসি-কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তল্লাশিতে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

মেধাবী ছাত্রীর অন্ধকার দিক: কাজল মীনার জীবন ছিল অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। সাওয়াই মাধোপুর জেলার বাসিন্দা কাজলের কেরিয়ার গ্রাফ ছিল চোখে পড়ার মতো:

  • আইআইটি টপার: আইআইটি মান্ডি থেকে বিটেক পাশ করার পর একাধিক নামী সংস্থায় কাজের সুযোগ পান।

  • বিসর্জিত কেরিয়ার: রাজস্থান প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি দিল্লির টেলিযোগাযোগ বিভাগে ASO ছিলেন এবং EPFO-তেও কর্মকর্তার পদে কাজ করেছেন। এমনকি ২০১৭ সালে JEN পদের জন্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

  • আরএএস ব্যাচ ২০২৪: উপজাতি কোটায় রেকর্ড নম্বর নিয়ে টপার হয়েছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় পোস্টিংয়েই খেল খতম: এটি ছিল কাজল মীনার কর্মজীবনের মাত্র দ্বিতীয় পোস্টিং। এর আগে তিনি প্রতাপগড় জেলার সুহাগপুরায় কর্মরত ছিলেন। গত ৩০ অক্টোবর, ২০২৫-এ তাঁকে নাদৌতিতে বদলি করা হয়। পোস্টিং পাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এমন গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর কেরিয়ার এখন খাদের কিনারায়।

প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য: একজন আইআইটি স্নাতক এবং রাজস্থান টপারের এমন পতন রাজস্থানের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। কেন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি সব সুযোগ-সুবিধা পান, তিনি মাত্র কয়েক হাজার টাকার লোভে এমন ঝুঁকি নিলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আপাতত তদন্ত চলছে এবং কাজল মীনাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy