লেন্সকার্টে টিপ ও সিঁদুর নিষিদ্ধ? ড্রেস কোড নিয়ে বিতর্কের ঝড়ে সাফাই দিলেন পীযূষ বনশল

টিসিএস-এর নাসিক অফিসের বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লেন্সকার্ট-এর পোশাক বিধি নিয়ে শুরু হলো বড়সড় বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে দাবি করা হয়, লেন্সকার্টের অফিসে কর্মীদের টিপ পরা নিষেধ, সিঁদুর পরলেও তা হতে হবে যৎসামান্য। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট শর্তে হিজাব পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির অভিযোগ ওঠার পরই আসরে নামেন খোদ পীযূষ বনশল।

বিতর্কিত সেই ‘নির্দেশিকা’য় কী ছিল?

ভাইরাল হওয়া নথিতে লেন্সকার্টের কর্মীদের জন্য বেশ কিছু ‘গ্রুমিং পলিসি’র কথা উল্লেখ ছিল:

  • টিপ ও সিঁদুর: স্পষ্ট বলা হয়েছিল, টিপ পরা যাবে না। আর সিঁদুর পরলেও তা যেন খুব অল্প হয় এবং কপালে না ছড়িয়ে পড়ে।

  • হিজাব: হিজাব পরার অনুমতি থাকলেও শর্ত ছিল তা হতে হবে কালো রঙের এবং তাতে যেন বুকের ওপর থাকা কোম্পানির লোগো ঢাকা না পড়ে। তবে স্টোরে কাজ করার সময় হিজাব পরা যাবে না বলেও সেখানে দাবি করা হয়।

পাল্টা জবাবে কী বললেন পীযূষ বনশল?

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) জবাব দেন লেন্সকার্ট সিইও পীযূষ বনশল। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  • ভুল নথি: পীযূষ জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে নথিটি ঘুরছে তা লেন্সকার্টের বর্তমান গাইডলাইন নয়।

  • পলিসি আপডেট: গ্রুমিং পলিসি বা ড্রেস কোড প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। পুরনো কোনো নথির ওপর ভিত্তি করেই এই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

  • ধর্মীয় স্বাধীনতা: বনশল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সংস্থায় টিপ, তিলক বা সিঁদুর— সবই পরা যায়। প্রত্যেকেই নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মত মেনে পোশাক পরতে পারেন, তাতে সংস্থার কোনো বাধা নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া:

পীযূষ বনশল সাফাই দিলেও নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, যদি এটি বর্তমান গাইডলাইন না-ও হয়, তবে অতীতে কেন এমন নিয়ম রাখা হয়েছিল? অনেকে আবার একে ‘সাংস্কৃতিক বৈষম্য’ হিসেবেও দেগে দিয়েছেন।

এডিটোরিয়াল নোট: কর্পোরেট জগতে পোশাক বিধি একটি সাধারণ বিষয় হলেও, যখনই তা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে, তখনই বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। পীযূষ বনশলের এই স্পষ্টিকরণ ড্যামেজ কন্ট্রোলে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy