নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে আড়াআড়ি বিভাজন! খাড়গের মন্তব্যে অস্বস্তিতে শরিক দলগুলি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নারী সংরক্ষণ বিল (Nari Shakti Vandan Adhiniyam) সংসদে পাশ হলেও, তা নিয়ে বিতর্কের আগুন এখনই নেভার লক্ষণ নেই। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবার এই বিলের প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন। তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান একদিকে যেমন জোটের অন্দরে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে, অন্যদিকে বিজেপিকে আক্রমণের নতুন হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

খাড়গের আপত্তির জায়গা কোথায়?

মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কংগ্রেস নারী সংরক্ষণের নীতিগতভাবে বিরোধী নয়। কিন্তু তাঁর অভিযোগের তির মূলত দুটি বিষয়ের দিকে:

  • সীমানা নির্ধারণের রাজনীতি (Delimitation): খাড়গের দাবি, সরকার এই বিলকে হাতিয়ার করে লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এর ফলে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি পিছিয়ে পড়তে পারে।

  • আদমশুমারিতে দেরি: খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কেন এখন থেকেই বিলটি কার্যকর করছে না? সীমানা নির্ধারণ এবং নতুন করে আদমশুমারি বা সেনসাস করার নাম করে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখা আসলে রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।

বিড়ম্বনায় ‘ইন্ডিয়া’ জোট

খাড়গের এই মন্তব্য জোটের বাকি দলগুলোর জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • তৃণমূল ও আপ-এর অবস্থান: তৃণমূল এবং আম আদমি পার্টির মতো দলগুলি নারী সংরক্ষণ বিলকে নিঃশর্ত সমর্থন করার বার্তা দিয়েছিল। এখন জোটের সবচেয়ে বড় শরিক কংগ্রেস যদি ‘কিন্তু’ জুড়ে দেয়, তবে জনমানসে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শরিক নেতারা।

  • বিজেপির পাল্টা তোপ: বিজেপির দাবি, কংগ্রেস কোনোদিন নারীদের ক্ষমতায়ন চায়নি। সীমানা নির্ধারণের দোহাই দিয়ে তারা আসলে সংরক্ষণের পথ আটকানোর চেষ্টা করছে।

ভোটের অঙ্কে প্রভাব

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নারী ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস যদি সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়, তবে বিজেপি তাকে ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে প্রচার করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, খাড়গে চাইছেন ওবিসি (OBC) মহিলাদের জন্য আলাদা কোটা নিশ্চিত করতে, যা জোটের শরিকদের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি করেছে।

বিশেষ বক্তব্য: খাড়গে এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা সংরক্ষণ চাই, কিন্তু সেটা যেন সরকারের রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র না হয়। প্রকৃত সুবিধা যেন প্রান্তিক নারীদের কাছে পৌঁছায়।”