অফিসে অশালীন দৃষ্টিতে তাকানো দণ্ডনীয় নয়? কড়া পর্যবেক্ষণে বড় মামলা খারিজ করল বম্বে হাইকোর্ট!

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী নারীর শরীরের দিকে কামুক বা অশালীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা অত্যন্ত অশোভন আচরণ হতে পারে, কিন্তু আইনের ভাষায় একে সবসময় ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ বলা যায় না। ২০১৫ সালের একটি বিতর্কিত মামলায় এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল বম্বে হাইকোর্ট। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) খারিজ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এক্ষেত্রে ‘ভয়ারিজম’ (Voyeurism) বা নারী শালীনতাহানির ধারা খাটে না।

ঠিক কী ঘটেছিল? মুম্বইয়ের বোরিভালি থানায় এক তরুণী তাঁর সহকর্মীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি ছিল:

  • অভিযুক্ত ব্যক্তি কথা বলার সময় তাঁর চোখের দিকে না তাকিয়ে বারবার তাঁর বক্ষস্থলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।

  • ২০১৪ সালের একটি মিটিং চলাকালীন তিনি অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরেন।

  • প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত কর্মক্ষেত্রে তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেন এবং নানা অশালীন মন্তব্য করেন।

আইনের ব্যাখ্যা ও আদালতের রায়: বিচারপতি অমিত বোরকর মামলাটি শোনার পর ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-সি (354-C) অনুচ্ছেদটি বিশ্লেষণ করেন। আইনে ‘ভয়ারিজম’ বলতে বোঝানো হয়েছে— যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের (যেমন পোশাক বদলানো, স্নান বা যৌন কার্যকলাপ) ছবি তোলেন বা আড়াল থেকে লক্ষ্য করেন।

আদালত জানায়:

  • অফিস বা মিটিং রুম কোনো নারীর ‘ব্যক্তিগত পরিসর’ বা প্রাইভেট প্লেস নয়।

  • অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারোর দিকে তাকিয়ে থাকা অশালীন বা অভদ্র আচরণ হতে পারে, কিন্তু আইনি সংজ্ঞায় তা ‘ভয়ারিজম’-এর আওতায় পড়ে না।

  • অভিযোগ সত্য ধরে নিলেও, এই ঘটনায় অপরাধের উপাদান অনুপস্থিত।

ইন্টারনাল কমিটির ক্লিনচিট: অভিযুক্তের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অফিসের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি (ICC) আগেই তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণেও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য শালীনতা ভঙ্গ করা হলেও, প্রচলিত আইনের ধারায় তাকে সাজা দেওয়া সম্ভব নয়।

কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের এই রায় বর্তমানে আইনি মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy