বাংলার ভোট মানেই টানটান উত্তেজনা আর নিরাপত্তার কড়াকড়ি। আর সেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার ছক সাজাল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতোই, প্রথম দফার ১৫২টি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হচ্ছে আকাশছোঁয়া ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—ভোটের ময়দানে গন্ডগোল বরদাস্ত করা হবে না, ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
আগামী ২৩শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলা এই প্রথম দফায় ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজ্যের ১৫২টি আসনের। নজরকাড়া বিষয় হলো, এবার প্রথম দফাতেই উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে শুরু করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো সীমান্ত ও পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে চাইছে কমিশন। বাদ যাচ্ছে না মালদহ, দুই দিনাজপুর কিংবা মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত জেলাগুলিও। জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং দুই মেদিনীপুরেও থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর শক্তিশালী টহল।
কমিশন সূত্রে খবর, অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা করে বাহিনীর কোম্পানি বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশেষত ‘অতি-সংবেদনশীল’ বুথগুলিতে থাকবে অতিরিক্ত কড়াকড়ি। ভোটাররা যাতে কোনো ভয় ছাড়াই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য বাহিনীর রুটমার্চ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রথম দফার এই সুবিশাল ভৌগোলিক এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘মহাসমাবেশ’ নির্বাচনকে কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





