বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং আন্দোলন চললেও, বাংলার সরকারি কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর এখনও অধরা। সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানির ওপরই এখন নবান্ন এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য নির্ভর করছে। আজ, ১৪ এপ্রিল ২০২৬-এ ফের একবার এই ইস্যুতে বড় কোনো ঘোষণা না আসায় রাজ্য জুড়ে ক্ষোভ এবং হতাশা বাড়ছে।
কেন এই খারাপ খবর? রাজ্য সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে, কোষাগারে অর্থের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে অনড়। ক্যালকাটা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ দেওয়ার পরিবর্তে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। শীর্ষ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় আপাতত নতুন করে ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না নবান্ন।
সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে নবান্ন: নবান্ন সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তারা কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা নিতে চাইছে না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। এই অবস্থায় বকেয়া ডিএ দিতে হলে সরকারি কোষাগারে বড়সড় টান পড়বে। ফলে, সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী তারিখই এখন একমাত্র দিশা।
কর্মীদের দাবি ও ক্ষোভ: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সাথে রাজ্য কর্মীদের ডিএ-র ফারাক এখন পাহাড় সমান। কর্মীদের একাংশের দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে এই ডিএ না পাওয়া তাঁদের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত। আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়িয়ে কর্মী সংগঠনগুলি এবার বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে ডিএ ইস্যু রাজ্যের জন্য একটি বড় ‘পলিটিক্যাল ইস্যু’। নবান্ন যদি আদালতের নির্দেশে ডিএ বাড়াতে বাধ্য হয়, তবে তা রাজ্য বাজেটে বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, এটি না মেটানো পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের সমর্থন পাওয়াও শাসকদলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।





