তিলোত্তমায় গণতন্ত্রের উৎসব কি নির্বিঘ্নে কাটবে? ২৯ এপ্রিল কলকাতায় ভোটের আগে এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। শহরবাসীকে আশ্বস্ত করতে এবং অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার কলকাতা উত্তরের ডিইও, পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস করলেন।
উত্তর কলকাতায় ‘ডেঞ্জার জোন’ কত? কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কলকাতার পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। জোড়াসাঁকো থেকে মানিকতলা— এই সাতটি বিধানসভা এলাকার প্রায় ৪৮ শতাংশ বুথকেই ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মোট বুথ: ১৮৩৫টি।
স্পর্শকাতর বুথ: ৮৩৭টি।
অতি স্পর্শকাতর বুথ: ২৬৪টি।
বিধানসভা ভিত্তিক অতি স্পর্শকাতর বুথের খতিয়ান: ডিইও স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, উত্তর কলকাতার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে অতি স্পর্শকাতর বুথ। এক নজরে দেখে নিন আপনার এলাকা কোথায় দাঁড়িয়ে:
শ্যামপুকুর: ৮০টি (সর্বোচ্চ)
চৌরঙ্গি: ৬০টি
কাশীপুর-বেলগাছিয়া: ৩৮টি
বেলেঘাটা: ৩২টি
এন্টালি: ২৭টি
জোড়াসাঁকো: ১৪টি
মানিকতলা: ১৩টি
নিরাপত্তার চাদরে কলকাতা: কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা মনোজ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, অশান্তি রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হচ্ছে। গোটা কলকাতায় মোট ৯৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা এলাকাতেই থাকছে ৪০ কোম্পানি বাহিনী। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথে যেতে পারেন, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে ভোটার সংখ্যা: সংশোধিত ভোটার তালিকা (SIR) অনুযায়ী, উত্তর কলকাতার এই ৭টি কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৮১০ জন।
কমিশনের এই কড়াকড়ি কি পারবে অশান্তি রুখতে? নাকি ফের শিরোনামে আসবে তিলোত্তমার নির্বাচনী হিংসা? উত্তরের অপেক্ষায় শহরবাসী।





