দিল্লির আবগারি নীতি দুর্নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মার বেঞ্চ থেকে মামলাটি সরানোর জন্য আর্জি জানালেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসোদিয়া। টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা টানটান উত্তেজনার শুনানির পর বিচারপতি শর্মা এই আবেদনের ওপর তাঁর রায় সংরক্ষিত রেখেছেন।
কেজরিওয়ালের ১০ যুক্তি ও সিবিআই-এর বিরোধিতা: শুনানি চলাকালীন অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিচারপতি স্বর্ণ কান্তাকে এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন এবং এর সপক্ষে ১০টি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেন। তবে সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে জানান, আসামীরা যদি বেছে নিতে শুরু করেন যে কোন বিচারপতি তাঁদের মামলা শুনবেন, তবে তা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং খারাপ নজির হয়ে থাকবে। তুষার মেহতা আরও বলেন, বিচারপতি শর্মার বেঞ্চ এর আগে কেজরিওয়ালের গ্রেফতারিকে সঠিক বলে রায় দিয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্টও বহাল রেখেছিল।
আদালতে বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য: সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মা বেশ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমার বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনে এই প্রথম কেউ আমাকে কোনো মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেন। আজ আমি অনেক কিছু শিখলাম।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি একটি ন্যায়সঙ্গত ও বলিষ্ঠ রায় দিতে পারবেন।
কেন এই পিছুটান? রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগের রায়গুলি কেজরিওয়াল শিবিরের প্রতিকূলে যাওয়ায় তাঁরা বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলাটি অন্য বেঞ্চে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেলের মতে, এটি বিচার বিভাগের ওপর চাপ তৈরির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল মাত্র। এখন দেখার, বিচারপতি শর্মা নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নেন কি না।





