ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের চিরবিদায়। ইহলোকের মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গত কয়েক দশক ধরে নিজের জাদুকরী কণ্ঠে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা এই শিল্পী আজ সুরের ভুবনকে অভিভাবকহীন করে চলে গেলেন।
লড়াই থামল ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে আশাজির। প্রবল বুকে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাঁকে তড়িঘড়ি মুম্বইয়ের বিখ্যাত ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শেষরক্ষা হয়নি। সেখানেই আজ তাঁর জীবনাবসান হয়।
একটি স্বর্ণযুগের সমাপ্তি
১৯৩৩ সালে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পী তাঁর বর্ণময় কর্মজীবনে ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও ধ্রুপদী সঙ্গীতের একটি বিশেষ যুগের সমাপ্তি ঘটল।
সাফল্যের ইতিহাস: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে শুরু করে দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণ— প্রতিটি সম্মান তাঁর মুকুটে ছিল উজ্জ্বল।
লতা-আশা যুগ: দিদি লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের কয়েক বছরের মধ্যেই আশাজির চলে যাওয়া সঙ্গীত দুনিয়ায় এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।
দেশজুড়ে শোকের ছায়া
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের নামী তারকারা। হাসপাতাল চত্বরে প্রিয় দিদিকে শেষবার দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন অগণিত ভক্ত। তাঁর মরদেহ কবে ও কোথায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে, তা পরিবারের পক্ষ থেকে শীঘ্রই জানানো হবে।
সুরের জাদুকরী ছোঁয়ায় তিনি যে মায়াজাল বুনেছিলেন, তা অনন্তকাল বেঁচে থাকবে তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে দিয়ে।





