পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই পাল্টাতে শুরু করেছে রাজনীতির অঙ্ক। আপাতদৃষ্টিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী মনে হলেও, গাণিতিক পরিসংখ্যান বলছে—বিজেপির জয় এবার আর আকাশকুসুম কল্পনা নয়। বরং শাসকদলের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা জনরোষ এবং ভোটার তালিকার বিরাট রদবদল ঘাসফুল শিবিরের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৯০ লক্ষ ভোটার ডিলিট: বদলে যাবে সব হিসেব?
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এত বিশাল সংখ্যক ভোটারের অনুপস্থিতি গত নির্বাচনের সমস্ত ট্রেন্ডকে ওলটপালট করে দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার এই ব্যাপক পরিবর্তন অনেক আসনেই জয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনবে, যার সরাসরি সুবিধা পেতে পারে গেরুয়া শিবির।
তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বনাম বিজেপির বিস্তার
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূলের জয়ের ভিত মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট শক্ত ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ:
তৃণমূল ১১৪টি আসনে গড়ে ১০ শতাংশের বেশি ব্যবধানে জেতে, যার বড় অংশই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।
এর ফলে তাদের মোট ভোট শতাংশ বাড়লেও, নতুন আসন জেতার ক্ষেত্রে তা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না।
অন্যদিকে, বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক সারা বাংলায় সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু প্রধান এবং মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বিজেপি অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
মাত্র ১.৯২ লক্ষ ভোটের খেল!
২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ফলাফলকে ভিত্তি ধরলে দেখা যাচ্ছে, বাংলার মসনদে বসা বিজেপির জন্য স্রেফ সময়ের অপেক্ষা হতে পারে।
মাস্টার স্ট্রোক: বাংলার মাত্র ৫৮টি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনে যদি মাত্র ১.৯২ লক্ষ ভোটের ‘সুইং’ বা রদবদল হয়, তবেই কেল্লাফতে করবে বিজেপি। এই সামান্য ব্যবধানটুকু পার করতে পারলেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলবে পদ্ম শিবির।
অস্তিত্বের লড়াইয়ে মরিয়া দুই পক্ষ
বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি এবং তৃণমূলের আসনভিত্তিক সীমাবদ্ধতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে এবারের নির্বাচন কার্যত এক ইঞ্চি জমির লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সংগঠনের শক্তিতে বিজেপি এখন জয়ের দোরগোড়ায়। এখন দেখার, এই ১.৯২ লক্ষ ভোটের সমীকরণ মিলিয়ে বিজেপি কি পারবে বাংলার কুর্সি দখল করতে? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ম্যাজিক আবারও রুখে দেবে মোদী-শাহের জয়যাত্রা?





