২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। এবার সরাসরি খাস কলকাতা নিয়ে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ দাবি, গত তিনটি নির্বাচনে কলকাতা থেকে বিরোধী শিবিরকে খালি হাতে ফেরালেও, এবার শহর কলকাতায় ‘খাতা’ খুলতে পারবে না রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
তিলোত্তমায় লড়াইয়ের মোড় বদল? বিগত ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ঘাসফুল শিবিরের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গে ফাটল ধরাতে পারেনি কোনও বিরোধী শক্তি। তবে শমীক ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর মতে, কলকাতার নাগরিকরা এবার তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ব্যালটে জবাব দিতে তৈরি।
শমীক ভট্টাচার্যের মূল বক্তব্য: বিজেপি সভাপতির দাবি, কলকাতা জুড়ে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে, তাতে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। তিনি বলেন:
“গত তিনবার কলকাতা আমাদের শূন্য হাতে ফিরিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এবার ফলাফল হবে তার উল্টো। তৃণমূল এবার কলকাতায় একটাও আসন পাবে না।”
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর আবহের পর কলকাতার শহুরে ভোটব্যাঙ্কে শাসক দলের প্রতি একপ্রকার অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য সেই সেন্টিমেন্টকেই কাজে লাগিয়ে এবার বিজেপি-র পাল্লা ভারী করার স্বপ্ন দেখছেন। তবে বিরোধী দলের এই দাবিকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, কলকাতার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেই আস্থা রাখবেন।
এখন দেখার, শমীক ভট্টাচার্যের এই বিষ্ফোরক দাবি তিলোত্তমায় কতটা সফল হয়, নাকি কলকাতা আগের মতোই তার পছন্দের ‘দিদি’র হাতেই থাকে।





