একদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাত, অন্যদিকে এবার প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সাঁড়াশি আক্রমণে কোণঠাসা পাকিস্তান। ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার দাবি করল তালিবান সরকার। খোদ রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে।
কেন এই হামলা? তালিবানের গর্জন
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক একটি কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি পাক বায়ুসেনা আফগান ভূখণ্ডে যে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছিল, এটি তারই পাল্টা জবাব। বিশেষ করে কাবুল ও বাগ্রাম বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাকিস্তানের আক্রমণের বদলা নিতেই তালিবান যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে এই দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়েছে।
তালিবানের নিশানায় ছিল যে ৪ প্রধান ঘাঁটি:
-
রাওয়ালপিন্ডি: নূর খান বিমান ঘাঁটি।
-
কোয়েট্টা: ১২ কর্পস সদর দফতর।
-
খাইবার পাখতুনখোয়া: মহম্মদ এজেন্সি এলাকা।
-
ঘালানি: অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি।
পাক সেনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি!
তালিবান সরকারের দাবি, এই হামলায় পাকিস্তানি সেনার পরিকাঠামো ও জনবলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আফগান বাহিনীর হুঁশিয়ারি— “যদি পাকিস্তান আবারও আকাশসীমা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে, তবে ইসলামাবাদকে এর চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।” যদিও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বয়ান পাওয়া যায়নি, তবে সীমান্তে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
বিশ্বজুড়ে হাসির খোরাক পাকিস্তান
যাদের হাতে অত্যাধুনিক চিনা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রয়েছে, তাদের ঘরে ঢুকে তালিবানের মতো একটি শক্তি (যাদের নিজস্ব কোনও ফাইটার জেট নেই বললেই চলে) কীভাবে এয়ারস্ট্রাইক চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের এয়ারস্ট্রাইকে ৯ জন আফগান শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। সেই শোক আর ক্ষোভকেই এবার কামানের গোলায় বদলে দিল তালিবান। ডুরান্ড লাইন বরাবর এখন কেবলই বারুদের গন্ধ।