ভারত এখন আর কেবল বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার নয়, বরং ডিজিটাল উদ্ভাবনের বিশ্বগুরু। ভারতের তৈরি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI)—যার মধ্যে রয়েছে আধার, ইউপিআই (UPI) এবং ডিজিলকার—তা এখন লাতিন আমেরিকান ও আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য উন্নয়নের নতুন চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
কেন এই দেশগুলো ভারতের দিকে ঝুঁকছে? বিশেষজ্ঞরা ৩টি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন:
১. খরচ কম কিন্তু কার্যকারিতা আকাশছোঁয়া: পাশ্চাত্যের বড় বড় টেক জায়ান্টদের (গুগল বা অ্যাপল) প্রযুক্তির খরচ অনেক বেশি। অন্যদিকে, ভারতের ডিপিআই মডেল অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য। স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ।
২. দুর্নীতিমুক্ত সরাসরি সুবিধা প্রদান (DBT): আফ্রিকার দেশগুলোতে সরকারি প্রকল্পের টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা ছিল মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতি। ভারতের ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT) মডেল দেখে তারা অভিভূত, যেখানে টাকা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
৩. আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ বা Financial Inclusion: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন (UPI) করার প্রযুক্তি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর গ্রামীণ অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ভারতের হাত ধরে তারা এখন তাদের বিশাল জনসমষ্টিকে আর্থিক ব্যবস্থার মূল স্রোতে আনতে চাইছে।
ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ বৃদ্ধি: ইতোমধ্যেই ভারত ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, কেনিয়া এবং লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর সঙ্গে এই প্রযুক্তি শেয়ার করার চুক্তি করেছে। উন্নত বিশ্বের একাধিপত্য ভেঙে ভারতের এই ‘ওপেন সোর্স’ প্রযুক্তি গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করছে।





