তীব্র গরমে আপনার শিশু কি পানিশূন্যতায় ভুগছে? এই বিপদচিহ্নগুলো এড়িয়ে গেলেই বড় বিপদ!

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। পারদ ৪২-৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। এই অবস্থায় শিশুদের ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ছোটরা মুখ ফুটে বলতে পারে না, ফলে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।

শিশুর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার প্রধান লক্ষণ:

যদি আপনার শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখেন, তবে বুঝবেন সে পানিশূন্যতায় ভুগছে:

  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া: শিশু যদি ৬-৮ ঘণ্টার বেশি সময় প্রস্রাব না করে বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়।

  • শুষ্ক মুখ ও ঠোঁট: ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা মুখ গহ্বর শুকনো দেখালে।

  • অশ্রুহীন কান্না: কান্নার সময় যদি চোখ দিয়ে জল না পড়ে।

  • নেতিয়ে পড়া: শিশু খুব দুর্বল হয়ে পড়লে, সবসময় ঘুমালে বা খেলাধুলার উৎসাহ হারিয়ে ফেললে।

  • চোখ বসে যাওয়া: চোখের চারপাশ বসে যাওয়া বা মাথার ওপরের নরম অংশ (তালু) বসে গেলে।

  • বিরক্তি: বিনা কারণে খিটখিটে মেজাজ বা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা।


প্রতিরোধের ৫টি অব্যর্থ উপায়:

১. পর্যাপ্ত তরল খাবার: শিশুকে বারবার জল পান করান। যদি শিশু বুকের দুধ খায়, তবে ঘন ঘন স্তন্যপান করান। বড় শিশুদের জন্য ডাবের জল, ওআরএস (ORS), বা বাড়িতে তৈরি পাতলা ফলের রস খুব কার্যকরী। ২. দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত শিশুকে বাড়ির বাইরে বের করবেন না। ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। ৩. সুতির হালকা পোশাক: শিশুকে সিন্থেটিক কাপড় না পরিয়ে ঢিলেঢালা, হালকা রঙের সুতির পোশাক পরান। এতে শরীরের ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়। ৪. রোদ থেকে ফিরলে স্নান: বাইরে থেকে ফিরলে সরাসরি ঠান্ডা জল না দিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর ঈষদুষ্ণ বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে স্নান করান। ৫. পাচনযোগ্য খাবার: এই গরমে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার না দিয়ে সহজে হজম হয় এমন ফল (তরমুজ, শসা) ও সবজি পাতে রাখুন।

বিশেষ পরামর্শ: যদি দেখেন শিশু বারবার বমি করছে বা একদমই জল খেতে পারছে না, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই গরমে অবহেলাই হতে পারে মারাত্মক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy