উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরান ও মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। রবিবার রাত থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধ আর তেলের দরে সরাসরি প্রভাব ইরানের ওপর মার্কিন ও ইজরায়েলি আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধের ফল ভোগ করতে হবে ট্রাম্পের বন্ধু দেশগুলোকেও। তেহরানের দাবি, তারা আমেরিকার বড়সড় ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের এই ডামাডোলে স্বস্তি নেই বাজারে। শুক্রবার যেখানে WTI ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৭ ডলার, রবিবার রাতেই তা একলাফে ৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৭২ ডলারে।
বন্ধ হওয়ার মুখে হরমুজ প্রণালী? বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। রাইস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথে যায়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক ও আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলোর তেলের রুট এটাই। বর্তমানে এই প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলা ও যুদ্ধের আশঙ্কায় থমকে যেতে পারে তেলের জোগান। আর তেমনটা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
OPEC-এর বড় পদক্ষেপ বাজার স্থিতিশীল রাখতে আসরে নেমেছে OPEC ভুক্ত দেশগুলো। সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ আটটি দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়াবে। এপ্রিল মাস থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২ লক্ষ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক থাকে।
ভারতের ওপর কতটা প্রভাব পড়বে? সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারতের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দামে কোনো বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ভারতে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভারত তার তেলের চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে মেটায়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে ভারত সরকার কতদিন দাম ধরে রাখতে পারবে তা নিয়ে সংশয় আছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ ভারতীয়দের পকেটেও টান পড়তে পারে।