ভারতীয় সংগীতের মুকুটহীন সম্রাট অরিজিৎ সিং-এর জীবনের গল্প কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। আজ তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন হলেও তাঁর শুরুটা হয়েছিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, অরিজিতের পারিবারিক শিকড় আসলে বর্তমান পাকিস্তানের লাহোরে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসই অরিজিতের পরিবারকে ছিন্নমূল করে নিয়ে এসেছিল এপারে।
অরিজিতের দাদু ছিলেন লাহোরের এক সমৃদ্ধ শিখ পরিবারের সন্তান। দেশভাগের সময় যখন চারদিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আর হাহাকার, তখন প্রাণ বাঁচাতে ঘর-বাড়ি, সম্পত্তি সব ছেড়ে সপরিবারে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হন তাঁরা। সেই যাত্রাপথ ছিল ভয়াবহ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা শেষমেশ আশ্রয় নেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। লাহোর থেকে আসা এই শিখ পরিবারটিই বাংলার মাটিতে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। অরিজিতের বাবা কক্কর সিং একজন শিখ, আর তাঁর মা একজন বাঙালি হিন্দু পরিবার থেকে আসায় অরিজিতের বড় হওয়াটা ছিল এক মিশ্র সংস্কৃতির আবহে।
শৈশবে অরিজিৎ তাঁর দাদুর খুব কাছের ছিলেন। দাদুর হাত ধরেই জিয়াগঞ্জের গুরুদ্বারে যেতেন তিনি। সেখানেই শুরু হয় তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি। গুরুদ্বারে বসে পবিত্র ‘শবদ কীর্তন’ গাইতেন ছোট্ট অরিজিৎ। হারমোনিয়াম হাতে নিয়ে সেই শুদ্ধ সুরের চর্চাই আজ তাঁকে লিজেন্ডারি গায়কে পরিণত করেছে। আজও মুর্শিদাবাদের সেই গুরুদ্বারে গেলে অরিজিতের ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি খুঁজে পাওয়া যায়। নিজের শিকড়কে ভোলেননি বলেই হয়তো আজও আকাশছোঁয়া সাফল্য পেয়েও অরিজিৎ সিং মাটির মানুষ হয়েই থাকতে ভালোবাসেন।