আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল ভারতীয় পর্যটকদের গায়ে। পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন কয়েক হাজার ভারতীয় যাত্রী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গভীর রাতে জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে আবুধাবির ভারতীয় দূতাবাস।
বিস্ফোরণের শব্দ ও বিমানবন্দরে হাহাকার
শনিবার রাত থেকেই দুবাই, দোহা, রিয়াদ এবং কুয়েতের আকাশসীমা নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুবাই ও আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর— যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ট্রানজিট রুট, সেখানে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। আবুধাবি বিমানবন্দরে আটকে পড়া ভারতীয় যাত্রী সঞ্জীব মেহতা তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন,
“হঠাৎই বিমানবন্দরের ভেতরে বিপদ সংকেত বা অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে। চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা বিমানবন্দরে চরম আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।”
সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় দূতাবাস
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছে। ইউএই (UAE) সরকার এবং বিভিন্ন বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে আটকে পড়া ভারতীয়দের খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকায় উড়ান বিভ্রাট ঘটছে।
-
ইউএই কর্তৃপক্ষ ভারতীয় যাত্রীদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।
-
আটকে পড়া যাত্রীদের ধৈর্য ধরার এবং দূতাবাসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই বিশৃঙ্খলা?
খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের ‘পাল্টা’ হামলায় তটস্থ গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে একাধিক বিস্ফোরণের খবর মিলছে। নিরাপত্তার খাতিরেই বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। বহু বিমান মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দরে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের কাছে।